সর্বোচ্চ আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা মেনে চলতি সপ্তাহেই অর্থ দফতরের তরফে একটি বিশেষ পোর্টাল চালু করা হয়েছে। যেখানে ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-র হিসেব আপলোড করতে শুরু করেছেন সরকারি কর্মীরা।
.jpeg.webp)
সুপ্রিম কোর্ট
শেষ আপডেট: 26 March 2026 13:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ টালবাহানার পর সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশে রাজ্য সরকারি (Govt Employees) কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) মেটাতে কোমর বেঁধে নামল নবান্ন। সর্বোচ্চ আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা মেনে চলতি সপ্তাহেই অর্থ দফতরের তরফে একটি বিশেষ পোর্টাল চালু করা হয়েছে। যেখানে ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-র হিসেব আপলোড করতে শুরু করেছেন সরকারি কর্মীরা। তবে এই প্রক্রিয়ার মাঝেই একগুচ্ছ প্রশ্ন ও সংশয় দানা বাঁধছে প্রশাসনিক মহলে।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে স্পষ্ট জানিয়েছিল, ডিএ কোনও দয়া নয়, বরং সরকারি কর্মচারীদের আইনি অধিকার। আদালত নির্দেশ দেয়, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে প্রথম কিস্তিতে মিটিয়ে দিতে হবে। সেই নির্দেশ মানতেই অর্থ দফতরের এই নতুন পোর্টাল। পোর্টালে তথ্য আপলোড শুরু হওয়ায় কয়েক লক্ষ কর্মী বকেয়া টাকা পাওয়ার আশায় বুক বাঁধছেন। আগামী মঙ্গলবার, অর্থাৎ ৩১ মার্চ চলতি অর্থবর্ষের শেষ দিনেই এই প্রথম কিস্তির টাকা কর্মীদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছনোর কথা (West Bengal Assembly Election 2026)।
আদালতের নির্দেশ ছিল, ডিএ দেওয়ার আগে একটি নির্দিষ্ট আদর্শ কার্যপদ্ধতি বা ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর’ (SOP) জারি করতে হবে। কিন্তু নবান্নর তরফে এখনও তেমন কোনও নির্দেশিকা প্রকাশ্যে না আসায় তৈরি হয়েছে প্রশাসনিক জটিলতা। নবান্নর শীর্ষ আধিকারিকদের একাংশের মতে, এসওপি ছাড়া এই বিশাল কর্মযজ্ঞ এবং পাওনাগণ্ডা মেটানোর কাজ নির্ভুলভাবে করা প্রায় অসম্ভব। তাছাড়া এত অল্প সময়ে লক্ষ লক্ষ কর্মীর তথ্য যাচাই করে টাকা মেটানো যাবে কি না, তা নিয়েও সংশয় কাটছে না।
সবথেকে বড় বিতর্ক দানা বেঁধেছে পোর্টালে তথ্যের এন্ট্রি নিয়ে। শিক্ষক সংগঠন ‘বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি’ বলছে, নতুন পোর্টালে কেবল সরাসরি সরকারি কর্মচারীরাই তথ্য আপলোড করতে পারছেন। অথচ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৫ মার্চ তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও সমভাবে এই বকেয়া ডিএ পাবেন।
এই বৈষম্যের অভিযোগ তুলে বামপন্থী সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন ‘কো-অর্ডিনেশন কমিটি’র নেতা বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরী ইতিমধ্যেই রাজ্যের অর্থসচিব প্রভাত মিশ্রকে চিঠি দিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, পোর্টালে ঠাঁই না পাওয়া এই বিশাল সংখ্যক কর্মী কি তবে প্রথম কিস্তির টাকা থেকে বঞ্চিত হবেন?
উল্লেখ্য, রোপা-২০০৯ অনুযায়ী বকেয়া এই ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়াটি সর্বোচ্চ আদালতের নজরদারিতে একটি বিশেষ মনিটরিং কমিটির অধীনে সম্পন্ন হচ্ছে। নবান্ন শেষ পর্যন্ত সবাইকে এই পোর্টালের আওতায় আনে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে কয়েক লক্ষ চাকরিজীবী।