এদিন রায়দিঘির সভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট না দেওয়ার সম্পূর্ণ অন্য যুক্তি খাড়া করেছেন অমিত শাহ। 'দিদির নয়, ভাইপোর শাসন হবে!' রায়দিঘির সভায় দাঁড়িয়ে অমিত শাহর (Amit Shah) এই মন্তব্য এখন রাজ্য-রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।

অমিত শাহ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 2 March 2026 20:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার দলের 'পরিবর্তন যাত্রা' (BJP Paribartan Yatra) কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে রায়দিঘির মথুরাপুরে উপস্থিত হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। সেখান থেকে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে তৃণমূল কংগ্রেসকে (TMC) নিশানা করেন তিনি। এবার জানা গেল, একই জায়গা থেকে বিজেপির পাল্টা সভা (West Bengal Elections 2026) করবে তৃণমূল। আগামী ৮ মার্চ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhisekh Banerjee) রায়দিঘিতে সভা করতে পারেন।
এদিন রায়দিঘির সভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট না দেওয়ার সম্পূর্ণ অন্য যুক্তি খাড়া করেছেন অমিত শাহ। 'দিদির নয়, ভাইপোর শাসন হবে!' রায়দিঘির সভায় দাঁড়িয়ে অমিত শাহর (Amit Shah) এই মন্তব্য এখন রাজ্য-রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। দুর্নীতির প্রসঙ্গ থেকে নারী নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ থেকে এসআইআর (West Bengal SIR) ইস্যু - বাংলার শাসক দলকে আক্রমণ করতে কোনও কিছু বাকি রাখেননি অমিত শাহ। তবে এতকিছুর মধ্যে সবথেকে বেশি চর্চা শুরু হয়েছে তাঁর 'ভাইপোর শাসন' মন্তব্য নিয়েই।
রাজ্যের আমজনতার উদ্দেশে অমিত শাহর বার্তা, ''এবার তৃণমূল কংগ্রেসকে (TMC) ভোট দিলে বড় ভুল করবেন। কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নয়, ভাইপোর (পড়ুন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) শাসন হবে!'' শাহের এও দাবি, বাংলার ভাল করা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যই নয়। তিনি আদতে অভিষেককে (Abhisekh Banerjee) মুখ্যমন্ত্রী বানাতে চান। কিন্তু এই পারিবারিক-রাজনীতি বিজেপিতে হয় না বলেই স্পষ্ট করেন তিনি। বলেন, দলের সাধারণ কর্মীও একদিন মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন - এটা একমাত্র বিজেপিতেই সম্ভব।
তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) মুর্শিদাবাদে যে মসজিদ (Humayun Kabir Masjid) তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন তা কড়া সমালোচনা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এই ব্যাপারেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তুলোধনা করেন অমিত শাহ। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, পরিকল্পনা করে রাজ্যে মসজিদ বানানোর ছক করেছেন মমতাই। তিনি শুধু হুমায়ুনকে ব্যবহার করছেন।
অমিত শাহের দাবি, একেবার পরিকল্পনাকে হুমায়ুন কবীরকে দল থেকে বের করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাতে বাংলায় মসজিদ তৈরি করা যায় কিন্তু রাজ্যের মানুষ তাঁর ওপর রুষ্ঠ না হন। কিন্তু শাহের কটাক্ষ, ''মমতাদি, বাংলার হিন্দু-মুসলমান দু-পক্ষই আপনাকে খুব ভাল করে চিনে গেছে। এবার আর তাঁদের বোকা বানানো যাবে না।''
এদিকে এদিনই দলের এসসি, এসটি, ওবিসি সেলের নেতৃত্বকে নিয়ে আয়োজিত ‘তফসিলির সংলাপ’ সম্মেলনে অভিষেক সরাসরি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে দলিত ও আদিবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অভিষেকের কটাক্ষ, “তপশিলি জাতির ওপর নির্যাতনের ঘটনায় গোল্ড মেডেল উত্তরপ্রদেশ, সিলভার রাজস্থান আর ব্রোঞ্জ পেয়েছে মধ্যপ্রদেশ (Madhya Pradesh)। আশ্চর্যের বিষয়, তিনটেই ডবল ইঞ্জিন সরকার!”
আদিবাসীদের ওপর নির্যাতনের পরিসংখ্যান তুলে ধরেও একই সুর শোনা যায় তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ডের গলায়। তিনি জানান, মণিপুরে উপজাতির ওপর আক্রমণের ঘটনা সবচেয়ে বেশি (৩,৩৯৯টি)। এরপরই রয়েছে মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থান। এখানেও ডবল ইঞ্জিন সরকারের ব্যর্থতাই ফুটে উঠেছে বলে দাবি অভিষেকের।
সব মিলিয়ে অমিত শাহর পাল্টা সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধিতার সুর যে আরও চড়া করবেন তা বলাই বাহুল্য।