কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন এখন আম্বেদকরের নাম জপ করা ফ্যাশন হয়ে গেছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 2 March 2026 14:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Assembly Election 2026) পাখির চোখ করে জনসংযোগের নয়া মডেল নিয়ে ময়দানে নেমেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সোমবার দলের এসসি, এসটি, ওবিসি সেলের নেতৃত্বকে নিয়ে আয়োজিত ‘তফসিলির সংলাপ’ সম্মেলনে অভিষেক সরাসরি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে দলিত ও আদিবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। এদিন তাঁর নিশানায় ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ডবল ইঞ্জিন’ 'উন্নয়নের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি'।
পরিসংখ্যানের নিরিখে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের ব্যর্থতা
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ২০২৩ সালের একটি রিপোর্ট উদ্ধৃত করে দাবি করেন, দলিত বা তপশিলি জাতিভুক্ত মানুষের ওপর আক্রমণের ঘটনায় দেশজুড়ে প্রথম স্থানে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ (১৫,১৩০টি ঘটনা)। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে যথাক্রমে রাজস্থান (৮,৪৪৯টি) এবং মধ্যপ্রদেশ (৮,২৩২টি)। এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে অভিষেকের কটাক্ষ, “তপশিলি জাতির ওপর নির্যাতনের ঘটনায় গোল্ড মেডেল উত্তরপ্রদেশ, সিলভার রাজস্থান আর ব্রোঞ্জ পেয়েছে মধ্যপ্রদেশ (Madhya Pradesh)। আশ্চর্যের বিষয়, তিনটেই ডবল ইঞ্জিন সরকার!”
আদিবাসীদের ওপর নির্যাতনের পরিসংখ্যান তুলে ধরেও একই সুর শোনা যায় তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ডের গলায়। তিনি জানান, মণিপুরে উপজাতির ওপর আক্রমণের ঘটনা সবচেয়ে বেশি (৩,৩৯৯টি)। এরপরই রয়েছে মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থান। এখানেও ডবল ইঞ্জিন সরকারের ব্যর্থতাই ফুটে উঠেছে বলে দাবি অভিষেকের।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য ও ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন এখন আম্বেদকরের নাম জপ করা ফ্যাশন হয়ে গেছে। অথচ তাঁর নিজের মন্ত্রকের তথ্যই বলছে দলিত ও আদিবাসীদের নিরাপত্তা কোন তলানিতে।
এরই পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্পের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন অভিষেক। তিনি বলেন, রাজ্যে তপশিলি জাতি ও উপজাতির মা-বোনেরা এখন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের মাধ্যমে মাসে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা (বর্তমানে বর্ধিত হারে ১৭০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়ার প্রসঙ্গ) পাচ্ছেন। দলিত নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের এই উন্নয়নমূলক মডেলকেই যে দল হাতিয়ার করতে চাইছে, তা স্পষ্ট।
জনসংযোগের নয়া মডেল: সংলাপ থেকে নির্বাচন
‘দিদির সুরক্ষা কবচ’ বা ‘তৃণমূলে নবজোয়ার’-এর ধাঁচেই জনসংযোগ বাড়াতে এবার ‘তফসিলির সংলাপ’ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তৃণমূল। জেলাভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন করে নিবিড় জনসংযোগের যে মডেল দল আগেই তৈরি করেছিল, এই সম্মেলনেও সেই একই মডেল অনুসরণ করা হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই কর্মসূচিগুলিই তৃণমূলের প্রাথমিক প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নেবে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।