কিছুদিন আগে এভাবেই অভিনেত্রী পার্নো মিত্র তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। অভিনেতা অঙ্কুশ হাজরাকে নিয়ে এরকমই বাহারি গল্প ঘুরছে টলিপাড়ায়। এ বার অনীক নিজেই তাঁর সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনায় ইন্ধন দিলেন।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও অনীক ধর।
শেষ আপডেট: 27 February 2026 14:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রিয়েলিটি শো-তে গান ধরতেন অনীক ধর (Aneek Dhar)। সেই থেকে পরিচিতি। পরে প্লে-ব্যাক, মাচা, আন্তর্জাতিক ট্যুর সেরে এখন খ্যাতি কমবেশি আরও ছড়িয়েছে। তার পর এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) ধরে নিলেন সুদর্শন তরুণ গায়ক। শুক্রবার দুপুর ১২ টার খানিক পর অনীক নিজেই তার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছেন সমাজ মাধ্যমে একটি ছবি পোস্ট করে। তাতে অভিষেককে ‘ডায়নামিক’ নেতা বলে প্রশংসাও করেছেন অনীক।
ওই পোস্টে অনীক আরও লিখেছেন, অভিষেক দৃঢ়প্রতিজ্ঞ নেতা। “বাংলার গর্ব ও অগ্রগতির পথে নিরলসভাবে এগিয়ে চলা এক খাঁটি বঙ্গসন্তান। সাহসকে সম্বল করে তিনি নেতৃত্ব দেন, আর হৃদয় দিয়ে মানুষের সেবা করেন।” অভিষেকের উদ্দেশে অনীক আরও লিখেছেন, “আপনি যেমন এতদিন ধরে তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছেন, আগামীতেও সেই অনুপ্রেরণার আলো আরও ছড়িয়ে পড়ুক। আপনার সঙ্গে দেখা করে সত্যিই ভালো লাগল, অভিষেক দা।”
বাংলায় বিধানসভা ভোটের (West Bengal Election 2026) আগে শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআর প্রক্রিয়ার শেষে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। তার পর সাপ্লিমেন্টারি তালিকা ঘোষণা হওয়ার আগে বা পরে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে। ফলে বিজেপির মতই এখন তৃণমূল শিবিরে প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য চূড়ান্ত ব্যস্ততা চলছে। এবং কে না জানে এ বার প্রার্থী বাছাইয়ে অভিষেক অন্যতম নির্ণায়ক শক্তি। যিনি কদিন আগেই প্রতীক উর রহমানকে তৃণমূলে সামিল করে স্পষ্ট জানান, তরুণ প্রজন্মকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা ভাবছেন তিনি। তা ছাড়া প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বয়সের উর্ধ্বসীমা রাখার অবস্থানে তিনি এখনও অবিচল।
এই সাত সতেরো পরিবেশে অনীক এদিন যখন অভিষেকের সঙ্গে ছবি পোস্ট করেছেন, তখন জল্পনায় রঙ লাগা স্বাভাবিক। কিছুদিন আগে এভাবেই অভিনেত্রী পার্নো মিত্র তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। অভিনেতা অঙ্কুশ হাজরাকে নিয়ে এরকমই বাহারি গল্প ঘুরছে টলিপাড়ায়। এ বার অনীক নিজেই তাঁর সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনায় ইন্ধন দিলেন।
বিধানসভা ভোটে তৃণমূলে প্রার্থী করার ব্যাপারে এবার সঙ্গীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তীকে নিয়ে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল। ইমনের বঙ্গবিভূষণ পুরস্কার পাওয়া নিয়েও চর্চা চলছে। তবে কালীঘাটের ঘনিষ্ঠ সূত্রে খবর, ইমন অনেক আগেই তাঁর অপারগতার কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানিয়ে দিয়েছেন। তাই সেই পরিচ্ছেদ বা অধ্যায় আগেই সমাপ্ত হয়েছে।
এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, তৃণমূলে কি নবীন প্রজন্মের নেতা বা কর্মী কম পড়েছে? না হলে ভোটের আগে টলিপাড়ায় দূরবীন দিয়ে খুঁজতে হচ্ছে কেন? আর কেনই বা কেরিয়ার প্রায় থমকে যাওয়া কিছু অভিনেতা বা শিল্পীকে ডেকে আনা হচ্ছে?
কালীঘাট ঘনিষ্ঠ এক নেতার কথায়, দলে এই চল অনেক দিন ধরেই রয়েছে। আসলে এর একটা প্রায় স্পষ্ট ফর্মুলা রয়েছে। যে সব আসনে তৃণমূলের স্থানীয় নেতাদের মধ্যে কোন্দল থাকে, বা বর্তমান বিধায়ককে প্রার্থী না করে স্থানীয় অন্য কাউকে করতে গেলে সমস্যায় পড়তে হয়, সেখানে এই সব বহিরাগত মুখের কথা ভাবা হয়। কিংবা যে সব কঠিন আসনে স্থানীয় নেতাকে প্রার্থীকে করে জেতা সম্ভব নয়, সেখানে সেলিব্রিটি কোশেন্ট যুক্ত করে বৈতরণী পারের চেষ্টা হয়। কখনও তা কাজে লাগে। যেমন জুন মালিয়া লোকসভা ভোটে মেদিনীপুর আসনে জিতে সাংসদ হয়েছেন। কখনও তা কাজে লাগে না। যেমন গত বিধানসভা ভোটে সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় বা সায়নী ঘোষরা পরাস্ত হয়েছিলেন।
এবারও তেমনই সব সূত্রে নানান নাম ভেসে উঠতে শুরু করেছে। শেষমেশ বিধানসভার চালচিত্রে কাদের মুখ দেখা যাবে তা স্পষ্ট হবে প্রার্থী তালিকায়।