বিহার এসআইআর মামলায় সম্প্রতি বড় নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। জানানো হয়েছিল, ১২ তম নথি হিসেবে আধার কার্ড গ্রহণ করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।

মনোজ আগরওয়াল এবং মনোজ পন্থ
শেষ আপডেট: 11 September 2025 13:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারের (Bihar) মতই বাংলায় (West Bengal) ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন তথা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) এখন অনিবার্য হয়ে উঠেছে। দুর্গাপুজো শেষ হলেই সেই সংশোধনের ঘণ্টা বাজবে ঢং ঢং করে। এ ব্যাপারে বুধবার নয়াদিল্লিতে নির্বাচন সদনে সবিস্তার আলোচনা হয়েছে।
সূত্রের খবর, এরই মধ্যে নবান্নের তরফে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়ালের (Manoj Agarwal) কাছে আর্জি জানানো হয়েছিল যে, ভোটার তালিকায় সংশোধনের ক্ষেত্রে রেশন কার্ড (Ration Card) ও স্বাস্থ্যসাথী কার্ড (Swasthasathi Card) মান্য হোক। কিন্তু কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, না তা আর হবে না। ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা রাখার ব্যাপারে ১১টি ডকুমেন্টকে মান্যতা দিয়েছে কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তাতে আধার কার্ডও যুক্ত হয়েছে। আর নয়।
সূত্রের খবর, রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ পন্থ হোয়াটস অ্যাপ মেসেজ করে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়ালের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন, রেশন ও স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের ব্যাপারে। কিন্তু সিইও জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি অপারগ।
যদিও নবান্নের দাবি, সিইও-র তরফ থেকেই প্রথমে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ওই ১১ নথি ছাড়া এ রাজ্যের মানুষদের আর কী কী সম্ভাব্য পরিচয়-কার্ড রয়েছে। সেটাই জানানো হয়েছে কমিশনকে।
সিইও দফতর সূত্রে বলা হচ্ছে, এটা নবান্নর সঙ্গে কোনও সংঘাতের ব্যাপার নয়। দুই মনোজের মধ্যে সংঘাতেরও ব্যাপার নয়। গোটা দেশ জুড়ে এ ব্যাপারে একই নিয়ম বলবৎ থাকবে।
মনোজ আগরওয়াল ও মনোজ পন্থ দুজনেই দীর্ঘদিন ডেপুটেশনে কেন্দ্রীয় সরকারের আমলা ছিলেন। এক সময়ে মনোজ পন্থ ছিলেন ইউপিএ জমানার মন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সচিব। তখন মনোজ আগরওয়াল ছিলেন তৎকালীন মন্ত্রী প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির ব্যক্তিগত সচিব।
সে যাক। ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন নিয়ে সিইও দফতরের তৎপরতা এখন চরমে। কমিশনের শীর্ষ সূত্রে বলা হচ্ছে, লক্ষ্মীপুজোর পর পরই বাংলায় এসআইআর শুরু করার ঘোষণা হয়ে যেতে পারে।
ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য যে ১২টি নথি বা ডকুমেন্টকে কমিশন মান্যতা দিয়েছে সেগুলি হল—
১) কেন্দ্র/রাজ্য সরকার বা পিএসইউ-র নিয়মিত কর্মী ও পেনশনভোগীর পরিচয়পত্র বা পেনশন অর্ডার
২) ১ জুলাই ১৯৮৭-র আগে ভারতে সরকার/ব্যাংক/ডাকঘর/এলআইসি/পিএসইউ কর্তৃক জারি করা পরিচয়পত্র/সনদ
৩) জন্মের শংসাপত্র বা বার্থ সার্টিফিকেট
৪) পাসপোর্ট
৫) মাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাগত শংসাপত্র
৬) রাজ্য সরকারের দেওয়া স্থায়ী বসবাসের শংসাপত্র
৭) বন অধিকার শংসাপত্র (Forest Right Certificate)
৮) ওবিসি/এসসি/এসটি বা অন্য জাতিগত শংসাপত্র
৯) ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেনস (যেখানে কার্যকর)
১০) পরিবার নিবন্ধন (রাজ্য/স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্বারা প্রস্তুত)
১১) সরকারি জমি বা বাড়ি বরাদ্দপত্র
১২) আধার কার্ড