নাগরিকত্বের প্রমাণ না হলেও আধার কার্ড বৈধ পরিচয়পত্র। এই পর্যবেক্ষণেই বিহার এসআইআর মামলায় বড় নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য আধার কার্ড গ্রহণ করতে হবে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 11 September 2025 13:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাগরিকত্বের প্রমাণ না হলেও আধার কার্ড (Aadhaar Card) বৈধ পরিচয়পত্র। এই পর্যবেক্ষণেই বিহার এসআইআর (Bihar SIR) মামলায় বড় নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে (ECI) স্পষ্ট বলা হয়েছে, ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য আধার কার্ড গ্রহণ করতে হবে। এর আগে ১১টি নথিকে মান্যতা দেওয়া হয়েছে। আধার কার্ড গৃহীত হয়েছে 'দ্বাদশ নথি' হিসেবে।
দেশের শীর্ষ আদালতের এই রায়কে বিজেপি তথা কেন্দ্র বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের জয় হিসেবেই দেখছে। কারণ, আধার কার্ডকে আদৌ নথি হিসেবে গ্রহণ করা যায় কিনা, তা নিয়ে বিস্তর তর্ক-বিতর্ক চলেছে। সবশেষে, ১১টি নথিকে সামনে রেখে সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য ছিল - পাসপোর্ট এবং জন্ম শংসাপত্র ছাড়া কোনওটিই নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। তাই আধারকে অন্তর্ভুক্ত করা যেতেই পারে এই তালিকায়।
ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য যে ১২টি নথির তালিকা দিয়েছে কমিশন, তা দেখে নিন -
১) কেন্দ্র/রাজ্য সরকার বা পিএসইউ-র নিয়মিত কর্মী ও পেনশনভোগীর পরিচয়পত্র বা পেনশন অর্ডার
২) ১ জুলাই ১৯৮৭-র আগে ভারতে সরকার/ব্যাংক/ডাকঘর/এলআইসি/পিএসইউ কর্তৃক জারি করা পরিচয়পত্র/সনদ
৩) জন্মের শংসাপত্র বা বার্থ সার্টিফিকেট
৪) পাসপোর্ট
৫) মাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাগত শংসাপত্র
৬) রাজ্য সরকারের দেওয়া স্থায়ী বসবাসের শংসাপত্র
৭) বন অধিকার শংসাপত্র (Forest Right Certificate)
৮) ওবিসি/এসসি/এসটি বা অন্য জাতিগত শংসাপত্র
৯) ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেনস (যেখানে কার্যকর)
১০) পরিবার নিবন্ধন (রাজ্য/স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্বারা প্রস্তুত)
১১) সরকারি জমি বা বাড়ি বরাদ্দপত্র
১২) আধার কার্ড
বিহারের পর বাংলা সহ প্রায় সব রাজ্যে এসআইআর হতে পারে এমন ইঙ্গিতই মিলেছে। দুর্গাপুজো শেষ হলেই তা শুরু হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই আবহে নবান্নের তরফে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়ালের (Manoj Agarwal) কাছে আর্জি জানানো হয়েছিল যে, ভোটার তালিকায় সংশোধনের ক্ষেত্রে রেশন কার্ড (Ration Card) ও স্বাস্থ্যসাথী কার্ড (Swasthasathi Card) মান্য হোক। কিন্তু কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, না তা আর হবে না। ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা রাখার ব্যাপারে ১১টি ডকুমেন্টকে মান্যতা দিয়েছে কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তাতে আধার কার্ডও যুক্ত হয়েছে। আর নয়।
যদিও নবান্নের দাবি, সিইও-র তরফ থেকেই প্রথমে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ওই ১১ নথি ছাড়া এ রাজ্যের মানুষদের আর কী কী সম্ভাব্য পরিচয়-কার্ড রয়েছে। সেটাই জানানো হয়েছে কমিশনকে।
সিইও দফতর সূত্রে বলা হচ্ছে, এটা নবান্নর সঙ্গে কোনও সংঘাতের ব্যাপার নয়। দুই মনোজের মধ্যে সংঘাতেরও ব্যাপার নয়। গোটা দেশ জুড়ে এ ব্যাপারে একই নিয়ম বলবৎ থাকবে।