এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে প্রক্রিয়া শুরু হলে তা যে রাজনৈতিক বিরোধিতার মুখে পড়বে, তা আগেভাগেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 10 September 2025 18:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারের পর এবার সারা দেশে চালু হতে চলেছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (Special Intensive Revision)। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) তরফে স্পষ্ট নির্দেশ, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রস্তুতি শেষ করতে হবে সব রাজ্যকে। অক্টোবরে এ ব্যাপারে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হতে পারে। তারপরই শুরু হতে পারে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ। তবে নির্দিষ্ট করে কোনও দিনক্ষণ এখনও জানায়নি কমিশন।
দিল্লিতে কমিশনের পক্ষ থেকে এদিনের বৈঠকে সমস্ত রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের (CEO) জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেপ্টেম্বরের মধ্যেই পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি শেষ করতে হবে। তবে দেশজুড়ে একযোগে এই প্রক্রিয়া চালু হবে নাকি যেসব রাজ্যে আগামিবছর বিধানসভা ভোট রয়েছে, সেখানে আগে শুরু হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
পাঁচ রাজ্য—পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, অসম, কেরল ও পন্ডিচেরি—আগামী বছরে ভোট, ফলে এই রাজ্যগুলিতে এসআইআর আগে চালু হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে প্রক্রিয়া শুরু হলে তা যে রাজনৈতিক বিরোধিতার মুখে পড়বে, তা আগেভাগেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে বুধবার মুখ্যমন্ত্রী জানান, "এসআইআর ২-৩ মাসের কাজ নয়। এটা করতে গেলে ২-৩ বছর সময় লাগে।" তাঁর অভিযোগ, "নির্বাচন কমিশন বিজেপির হয়ে কাজ করছে।" আগেও একাধিকবার এই অভিযোগ তুলেছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
যদিও রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে জাতীয় কমিশনকে ইতিমধ্যেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর জন্য রাজ্য প্রস্তুত। প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও কর্মীবাহিনীও প্রস্তুত রেখেছে তারা।
উল্লেখ্য, বিহারে এসআইআরের সময় ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ তুলে বিরোধীরা কমিশনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে। যদিও কমিশনের পাল্টা দাবি, প্রকৃত ভোটারদের নাম যাতে বাদ না যায়, সে জন্য একাধিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কমিশনের এক কর্তা জানিয়েছেন, "২০০২ সালে বাংলায় ৪ কোটি ৫৮ লক্ষ ভোটারের মধ্যে প্রায় ২৮ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছিল। এবার অতীতের সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই আরও বেশি স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতির মাধ্যমে তালিকা সংশোধনের কাজ হবে।"
তবে রাজ্যে এই প্রক্রিয়া শুরুর আগেই মুখ্যমন্ত্রীর তীব্র আপত্তিতে রাজনৈতিক সংঘাতের সম্ভাবনা আরও বেড়ে গেল বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। এখন দেখার, কমিশন কতটা অনড় থাকে তার সিদ্ধান্তে।