সাড়ে চার বছর শুয়ে-বসে কাটিয়ে দেওয়ার পর এখন অনেক বিধায়কের মনে হচ্ছে, আরে এলাকার কাজটা তো করানো হল না। তাই মন্ত্রীর কাছে হত্যে দিয়ে পড়ে থাকা।

ছবি: এআই
শেষ আপডেট: 6 February 2026 19:18
ভোট যত এগিয়ে আসে, ততই প্রশাসনিক করিডরগুলিতে দৌড়ঝাঁপ বাড়ে। বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly) শিয়রে। কাজেই স্বাভাবিকভাবে এখন বিধানসভায় অলিন্দেও তৎপরতা দেখা মতো। ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে পাল্লা দিয়েই মন্ত্রীদের (WB Ministers) দরজায় দরজায় হাজির হচ্ছেন বিধায়করা (West Bengal MLA)। কেউ নিজের এলাকার জন্য, কেউ আবার পাশের বিধানসভা ধরে। দাবি একটাই, ভোটের আগে অন্তত কাজের ছাপটা যেন থাকে।
সাড়ে চার বছর শুয়ে-বসে কাটিয়ে দেওয়ার পর এখন অনেক বিধায়কের মনে হচ্ছে, আরে এলাকার কাজটা তো করানো হল না। তাই মন্ত্রীর কাছে হত্যে দিয়ে পড়ে থাকা। যদি অন্তত একটা কাজ বাগিয়ে উন্নয়নের মার্কশিটে কিছুটা মার্কস পাওয়া যায় (Assembly Election)।
সবচেয়ে বেশি তদবির রাস্তা নিয়ে। নতুন রাস্তার স্বপ্ন আপাতত বাক্সবন্দি। সময় নেই, অর্থও সীমিত। কিন্তু যে পুরোনো রাস্তাগুলি বছরের পর বছর ধরে খানাখন্দে, সেগুলি অন্তত জোড়াতালি দিয়ে হলেও সারানো যায় কি না, সেই চেষ্টাই এখন তুঙ্গে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার (South 24 Parganas) এক বিধায়কের তদবিরের গল্প মন্ত্রীমহলেও বেশ আড্ডার মাঝে হাসির বিষয় হয়ে উঠেছে। নিজের বিধানসভা তো বটেই, পাশের এলাকার রাস্তাও তাঁর দাবির তালিকায়। ভোটের অঙ্কে মানচিত্রের রেখা বড় বেশি নমনীয়।
রাস্তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তালিকায় রয়েছে বাংলার বাড়ি প্রকল্প, টিউবওয়েল বসানো, রাস্তার আলো। মুখ্যমন্ত্রী সিঙ্গুর বাংলার বাড়ির জন্য দ্বিতীয় পর্যায়ের টাকা দেওয়ার ঘোষণা করতেই সেই প্রকল্প ঘিরে নতুন করে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে বিধায়কদের মধ্যে। কে আগে ঢুকবেন মন্ত্রীর ঘরে, কে আগে ফাইল ঠেলে দেবেন, সেও যেন এক প্রতিযোগিতা। কারণ সবাই জানেন, ভোট ঘোষণার ঘণ্টা বেজে গেলে ফাইলের গতি হঠাৎ করেই শ্লথ হয়ে যায়। তখন আর নতুন ওয়ার্ক অর্ডার নেই, নতুন ঘোষণা নেই। যা হয়েছে তার ছবি দেখিয়ে প্রতিশ্রুতির কিস্যা শোনানো।
এই কারণেই যত তাড়াহুড়ো। অন্তত অর্থ বরাদ্দের সইটা যদি করানো যায়, একটা কাজ যদি কাগজে-কলমে শুরু দেখানো যায়, এই আশাতেই বিধায়কদের চক্কর। মন্ত্রী যদি নিজের জেলার হন, তা হলে সেই জেলার বিধায়কদের দাবি তো থাকছেই। কিন্তু অন্য জেলার বিধায়করাও কম নাছোড়বান্দা। যেমন হুগলির এক বিধায়কের কথাই যদি বলা যায়। “দাদা, আর ক’দিনই তো। তিনটে গ্রাম একসঙ্গে আছে। কাজটা যদি অন্তত শুরু করতে না পারি…” বাকিটা না বললেও বোঝা যায়, ভোটের লড়াই বড় বালাই।
ভোট এলেই জনপ্রতিনিধিদের কাজের হিড়িক বাড়ে। এ নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিককালে তার সঙ্গে যোগ হয়েছে ‘রিপোর্ট কার্ড’-এর ভয়। কে কেমন কাজ করলেন, কার নামে কতটা উন্নয়ন দৃশ্যমান, সবই এখন সংখ্যায়, তালিকায়, সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টে মাপা হয়। সেই হিসেবেই বিধায়কদের এই দৌড়ঝাঁপ। এ ব্যাপারে এক মন্ত্রী বলেন, "ভোটে টিকিট পাবে কি পাবে না, তার ঠিক নেই; এখন কোনও কোনও বিধায়ক প্রমাণ করতে বদ্ধপরিকর যে তাঁরা অনেক কাজ করেছেন বা করার চেষ্টা করছেন। এমনও কয়েকজন তদবির নিয়ে আসছেন, তাঁরা এত বছরে খুব একটা ঢুঁ মারেননি। মরন কালে হরির নাম যাকে বলে।"