দ্য ওয়াল ব্যুরো : বৃহস্পতিবার মিছিলে মিছিলে জেরবার হয়েছে রাজধানী দিল্লি ও তার আশপাশের এলাকা। রাস্তায় দীর্ঘ যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে বহু গাড়ি। এই অবস্থায় দুপুরবেলা ছুটি হয়েছে নয়ডা ও গুরগাঁওয়ের বেশ কয়েকটি স্কুলে। কিন্তু ছেলেমেয়েরা কখন বাড়ি পৌঁছাবে ঠিক নেই। এর মধ্যে যাতে খিদেয় কষ্ট না হয়, সেজন্য ছাত্রছাত্রীদের হাতে বিস্কুট আর জলের বোতল তুলে দিল কয়েকটি স্কুল।
গার্জেনদের কাছে স্কুল থেকে হোয়াটস অ্যাপে বার্তা পাঠানো হয়েছে, ছেলেমেয়েদের নেওয়ার জন্য আজ দয়া করে ঠিক সময়ে বাস স্টপে আসুন। সেই সঙ্গে কয়েকটি স্কুল জানিয়েছে, যানজটের আশঙ্কায় তাড়াতাড়ি ছুটি দিচ্ছে তারা। এক ছাত্রের মা জানিয়েছেন, অনেক গার্জেন ভাবছেন, সরাসরি স্কুলে গিয়েই বাচ্চাকে নিয়ে আসবেন।
বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও-য় দেখা যায়, দুপুরে সেন্ট্রাল দিল্লির বরাখাম্বা রোডে স্কুলের সামনে দিয়ে যাচ্ছেন একদল বিক্ষোভকারী। মঙ্গলবার উত্তর-পূর্ব দিল্লির সিলামপুরে বিক্ষোভের সময় একটি স্কুলবাসে ভাঙচুর করা হয়। এদিন সকালে দিল্লি-গুরগাঁও রোডে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। ছয় লেনের রাস্তায় যাতায়াত করার জন্য খুলে রাখা হয়েছে মাত্র একটি লেন। সেখান দিয়ে প্রতিটি গাড়ি যাওয়ার সময় তল্লাশি করা হয়েছে। একটি সূত্রে খবর, গুরগাঁওয়ের পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে একের পর এক গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে।
গুরগাঁও ট্রাফিক পুলিশ টুইট করে বলেছে, দিল্লির সীমান্তে ৪৮ নম্বর জাতীয় সড়ক, এমজি রোড এবং ওল্ড দিল্লি গুরুগ্রাম রোড বন্ধ করা হয়েছে। বাধ্য না হলে এদিন দিল্লিতে যাবেন না। আপনাদের অসুবিধার জন্য আমরা গভীর দুঃখ প্রকাশ করছি।
https://twitter.com/TrafficGGM/status/1207546476550713344
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী দিল্লি। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন হাজারও মানুষ। দিল্লির লালকেল্লা চত্বরে প্রতিবাদ মিছিল রুখতে গেলে পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ শুরু হয় বিক্ষোভকারীদের। কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ। বিক্ষোভের আঁচ যে চরমে উঠতে পারে তা আগেই আন্দাজ করেছিল দিল্লি পুলিশ। তাই আগেভাগেই ১৮ তারিখ টুইট করে জানানো হয়েছিল নির্দিষ্ট কয়েকটি এলাকায় বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে ফোনের সমস্ত রকম পরিষেবা। তবে ওই নির্দিষ্ট এলাকা ছাড়াও বেশ কিছু জায়গায় পরিষেবা ব্যহত হয়েছে বলে খবর। এমনকি ১টার পরেও সচল হয়নি পরিষেবা। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং উস্কানিমূলক বা প্ররোচনামূলক অশান্তি এড়াতেই ফোনের সমস্ত পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।