বিজ্ঞাপিত বেতন-স্তরের নিয়ম মেনেই গ্রুপ ‘বি’ কর্মচারীদের তালিকা প্রস্তুত ও নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি নবান্নের। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের বিচ্যুতি ঘটেনি। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে অনিয়ম বা হেরফেরের অভিযোগ তুলে সংবাদমাধ্যমে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য এবং ভিত্তিহীন।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 11 February 2026 12:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের এসআইআর-এর (West Bengal SIR) চূড়ান্ত পর্বে আধিকারিক নিয়োগ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাত চরমে উঠল। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, গ্রুপ-বি অফিসারদের (Group B Officers) নামে যে তালিকা পাঠানো হয়েছে, তাতে পঞ্চায়েত কর্মী, ক্লার্ক এমনকি অবসরপ্রাপ্তদের নামও ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় বহু অসঙ্গতি রয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁর।
শুভেন্দুর বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্ট এসআইআর (Supreme Court SIR Hearing) প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করেনি ঠিকই, কিন্তু রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছে। তাঁর কথায়, “এ রাজ্যে গুন্ডামি চলছে - আদালত তা স্পষ্ট করেছে।” পাশাপাশি ৮,৫০০-র বেশি অফিসারের (Group B Officers) তালিকা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন এবং দাবি করেন, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা নিয়মবিরুদ্ধ। শীর্ষ আদালতের নির্দেশের পরও যে রাজ্য এমন পদক্ষেপ নিতে পারে, তা 'অবিশ্বাস্য' বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে নবান্ন (Nabanna) সম্পূর্ণভাবে এই অভিযোগ খারিজ করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া গ্রুপ ‘বি’ কর্মচারীদের তালিকা সম্পূর্ণভাবে রাজ্য সরকারের অর্থ দফতরের ৬ অক্টোবর ২০২০ তারিখের স্মারকলিপি নম্বর ২১৬০-এফ(জে)ডব্লিউবি অনুযায়ী তৈরি। ওই স্মারকলিপিতে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের গ্রুপ ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ এবং ‘ডি’ - এই চারটি শ্রেণিতে ভাগ করার মানদণ্ড স্পষ্টভাবে নির্ধারিত রয়েছে।
সেই বিজ্ঞাপিত বেতন-স্তরের নিয়ম মেনেই গ্রুপ ‘বি’ কর্মচারীদের তালিকা প্রস্তুত ও নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি নবান্নের। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের বিচ্যুতি ঘটেনি। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে অনিয়ম বা হেরফেরের অভিযোগ তুলে সংবাদমাধ্যমে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য এবং ভিত্তিহীন।
উল্লেখ্য, গত ৪ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার শুনানিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে আদালতে উপস্থিত ছিলেন। সে দিন নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারকে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত সংখ্যক যোগ্য কর্মী দেওয়া হয়নি, যার ফলে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়ছে। সেই অভিযোগের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী আদালতে স্পষ্ট জানান, রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় সংখ্যক যোগ্য আধিকারিক দিতে প্রস্তুত।
বিরোধী শিবিরের দাবি, বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক নয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার সঙ্গেও যুক্ত। পাল্টা রাজ্যের বক্তব্য, সমস্ত পদক্ষেপই নিয়ম মেনেই করা হয়েছে।