গ্রুপ ‘বি’ অফিসারদের তালিকা বিকৃতির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব নবান্ন। সুপ্রিম কোর্টের শুনানির পর ফের তীব্র রাজ্য-কমিশন সংঘাত।

ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 10 February 2026 23:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নবান্নের (Nabanna) তরফে মঙ্গলবার জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকারের নজরে এসেছে যে নির্বাচন কমিশনে (Election Commission) জমা দেওয়া গ্রুপ ‘বি’ আধিকারিকদের নামের ডেটাবেসের বিষয়বস্তু বিকৃত করছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, এই ধরনের অপপ্রচার মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের ৯ ফেব্রুয়ারির পর্যবেক্ষণের প্রেক্ষিতে বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া গ্রুপ ‘বি’ কর্মচারীদের তালিকা সম্পূর্ণভাবে রাজ্য সরকারের অর্থ দফতরের ৬ অক্টোবর ২০২০ তারিখের স্মারকলিপি নম্বর ২১৬০-এফ(জে)ডব্লিউবি অনুযায়ী তৈরি। ওই স্মারকলিপিতে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের গ্রুপ ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ এবং ‘ডি’—এই চারটি শ্রেণিতে ভাগ করার মানদণ্ড স্পষ্টভাবে নির্ধারিত রয়েছে। সেই বিজ্ঞাপিত বেতন-স্তরের নিয়ম মেনেই গ্রুপ ‘বি’ কর্মচারীদের তালিকা প্রস্তুত ও নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি নবান্নের। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের বিচ্যুতি ঘটেনি। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে অনিয়ম বা হেরফেরের অভিযোগ তুলে সংবাদমাধ্যমে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য এবং ভিত্তিহীন।
উল্লেখ্য, গত ৪ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার শুনানিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে আদালতে উপস্থিত ছিলেন। সে দিন নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারকে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত সংখ্যক যোগ্য কর্মী দেওয়া হয়নি, যার ফলে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়ছে। সেই অভিযোগের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী আদালতে স্পষ্ট জানান, রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় সংখ্যক যোগ্য আধিকারিক দিতে প্রস্তুত।
এর পরেই, গত ৭ ফেব্রুয়ারি রাজ্য সরকার জানায়, এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য ৮,৫০৫ জন গ্রুপ ‘বি’ অফিসার দেওয়া হবে। তবে সোমবার, অর্থাৎ ৯ ফেব্রুয়ারির শুনানিতে রাজ্যের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়, এই ৮,৫০৫ জন অফিসারের সম্পূর্ণ তালিকা আগেই নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হয়নি। কারণ হিসেবে জানানো হয়, কমিশনের সম্মতির জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত সেই দিনের শুনানিতেই তালিকাটি নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।