রাতভর টানটান পরিস্থিতির পর বৃহস্পতিবার সকালেও উত্তেজনা প্রশমিত হয়নি। বরং নতুন করে অবরোধ গড়ে ওঠে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে। এর পাশাপাশি মালদহ-মোথাবাড়ি রাজ্য সড়কের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 2 April 2026 11:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে ভোটার তালিকা সংশোধন (West Bengal SIR) ঘিরে উত্তেজনা চরমে মালদহের কালিয়াচকে (Maldah SIR Protest)। নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিক্ষোভ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অবরোধের জেরে কয়েক ঘণ্টা আটকে পড়তে হয় বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদেরও।
বুধবার সকাল থেকেই কালিয়াচক-২ ব্লক এলাকায় উত্তেজনা ছড়াতে শুরু করে। অভিযোগ, বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। সেই ক্ষোভ থেকেই রাস্তা অবরোধ করে প্রতিবাদ শুরু করেন এলাকাবাসীরা। পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে, যখন অবরোধের জেরে ব্লক অফিসে আটকে পড়েন সাতজন বিচারবিভাগীয় আধিকারিক, যাঁরা এসআইআর সংক্রান্ত কাজে সেখানে গিয়েছিলেন।
রাতভর টানটান পরিস্থিতির পর বৃহস্পতিবার সকালেও উত্তেজনা প্রশমিত হয়নি। বরং নতুন করে অবরোধ গড়ে ওঠে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে। এর পাশাপাশি মালদহ-মোথাবাড়ি রাজ্য সড়কের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে। এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বিপুল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা।
স্থানীয়দের বক্তব্য, সমস্যার সমাধান না করে ভোট প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে না। প্রশাসনের তরফে ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার পথ খোলা থাকলেও বিক্ষোভকারীদের দাবি, আগে ভোটার তালিকার ভুল সংশোধন করতে হবে, তারপর ভোট।
ঘটনার মধ্যে নাটকীয় মোড় আসে যখন ব্লক অফিস থেকে বেরোনোর পরও বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের পুনরায় আটকে দেওয়া হয়। প্রায় ৭ কিলোমিটার যাওয়ার পর তাঁদের গাড়ি ঘিরে ফেলে বিক্ষোভকারীরা। ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা যায়, উত্তেজিত জনতার ভিড়, মাইকিং করে প্রতিবাদ এবং চরম উত্তেজনা। শেষ পর্যন্ত গভীর রাতে পুলিশি হস্তক্ষেপে তাঁদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়। প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ঘেরাও পরিস্থিতির মধ্যে ছিলেন তাঁরা।
প্রশাসনের তরফে বারবার অবরোধ তুলে নেওয়ার আবেদন জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা দফায় দফায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
মালদহের পুলিশ সুপার অনুপম সিংহ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। যদিও এই মুহূর্তে পুরো ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি তিনি। তবে ভোটের মুখে এই ঘটনাকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা ও নির্বাচন প্রক্রিয়া - দুই নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।