বুধবার রাত পর্যন্ত পাওয়া কমিশনের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, ভোট প্রক্রিয়াকে নিশ্ছিদ্র করতে কোমর বেঁধে নামছে প্রশাসন।

সিইও মনোজ আগরওয়াল
শেষ আপডেট: 18 March 2026 22:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে ভোটারদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে তৎপর নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। শুধু বুথ চত্বরেই নয়, এলাকার কোথাও যদি কোনও ভোটারকে ভোটদান থেকে বিরত রাখা হয় বা ভয় দেখানো হয়, তবে সংশ্লিষ্ট বুথে ‘রিপোল’ বা পুনর্নির্বাচনের হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল (CEO)। বুধবার রাত পর্যন্ত পাওয়া কমিশনের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, ভোট প্রক্রিয়াকে নিশ্ছিদ্র করতে কোমর বেঁধে নামছে প্রশাসন।
এখানে বলে রাখা দরকার, এর আগে থেকেই কমিশনের কাছে অভিযোগ জানাতে শুরু করেছে তৃণমূল। বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) সাম্প্রতিক কিছু ‘হুমকি’ মন্তব্যের বিরুদ্ধে দিল্লির নির্বাচন সদনে অভিযোগ জমা পড়েছে।
ভয় দেখালেই পুনর্নির্বাচন
নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট বার্তা, জনপ্রতিনিধিত্ব আইন মেনেই প্রতিটি পদক্ষেপ করা হবে। এতদিন ধারণা ছিল যে, কেবল বুথ বা তার ১০০ মিটারের মধ্যে গন্ডগোল হলে তবেই রিপোল হয়। কিন্তু এ বার কমিশন সাফ জানিয়ে দিল, যদি যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ থাকে যে কোনও ভোটারকে বুথে আসার পথেই আটকানো হয়েছে বা হুমকি দেওয়া হয়েছে, তবে সেই বুথে পুনরায় ভোট নেওয়া হতে পারে।
অভিযোগ জানানোর ৮ ঘণ্টার মধ্যেই সুরাহা
ভোটারদের অভিযোগ (Voter's Complaint) দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একটি বিশেষ ‘কমপ্লেন রিড্রেসাল সেল’ তৈরি করেছে কমিশন। আপাতত সিইও দফতরের ৯ জন আধিকারিক ও ৬ জন মাইক্রো অবজার্ভার এই দায়িত্ব সামলাবেন। যে কোনও অভিযোগের জন্য টোল-ফ্রি নম্বর ১৯৫০ চালু করা হয়েছে। কমিশনের প্রতিশ্রুতি, অভিযোগ জানানোর ৮ ঘণ্টার মধ্যেই তার সমাধান করা হবে। এ ছাড়াও নবান্নের কাছে আরও অতিরিক্ত আধিকারিক চেয়ে পাঠিয়েছে কমিশন।
রাজ্যের নির্বাচনী প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে আজ বুধবার রাতের মধ্যেই রাজ্যে পৌঁছে যাচ্ছেন কয়েকশো পর্যবেক্ষক। এর মধ্যে রয়েছেন:
আগামিকাল থেকেই তাঁরা নিজেদের নির্ধারিত এলাকায় কাজ শুরু করবেন।
অন্যদিকে, গিরীশ পার্কের সাম্প্রতিক অশান্তির ঘটনায় কলকাতা পুলিশ কমিশনারের (CP) পাঠানো রিপোর্টে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কমিশন। সেই রিপোর্টকে ‘অর্ধেক রিপোর্ট’ বলে তোপ দেগে ফের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। কমিশনের প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় গোয়েন্দা ব্যর্থতা কেন হল এবং কেন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করা হল না? কারও গাফিলতি থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাও রিপোর্টে বিশদে জানাতে বলা হয়েছে।
ভোটার তালিকা ও সিইও-র সফর
বিচারাধীন থাকা ভোটারদের জটও দ্রুত কাটছে। বুধবার রাত সাড়ে সাতটা পর্যন্ত ২৩ লক্ষ ৩০ হাজার মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। আগামী শুক্রবার প্রকাশিত হতে পারে প্রথম ‘সাপ্লিমেন্টারি’ ভোটার তালিকা, যেখানে সংযোজন (Addition) ও বিয়োজন (Deletion)— দুই-ই থাকবে।
বিবেচনাধীন থাকা শশী পাঁজার নামের নিষ্পত্তি ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, আগামী শুক্রবার যে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করা হবে, সেই তালিকাতেই থাকছে তৃণমূল প্রার্থীর নাম। ফলে এই নির্বাচনে তাঁর প্রার্থী হওয়া নিয়ে আর কোনও জটিলতা থাকছে না।
প্রথম দফার ভোটের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে সফরে বেরোচ্ছেন খোদ সিইও। জেলাওয়াড়ি আইনশৃঙ্খলার গ্রাউন্ড রিপোর্ট খতিয়ে দেখাই হবে তাঁর এই সফরের মূল লক্ষ্য। মোট কথা, ৪ মে ফলাফলের আগে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ কমিশন।