শাসক দলের অভিযোগ, দিলীপবাবু প্রকাশ্য জনসভা ও ভিডিও বার্তায় তৃণমূলের বিধায়ক এবং সাধারণ ভোটারদের ওপর হামলার প্ররোচনা দিচ্ছেন। দিল্লির নির্বাচন সদনে এই মর্মে ইতিমধ্যেই অভিযোগ জমা দিয়েছে জোড়াফুল শিবির।

দিলীপ ঘোষ
শেষ আপডেট: 18 March 2026 14:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) সাম্প্রতিক কিছু ‘হুমকি’ মন্তব্যের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। শাসক দলের অভিযোগ, দিলীপবাবু প্রকাশ্য জনসভা ও ভিডিও বার্তায় তৃণমূলের বিধায়ক এবং সাধারণ ভোটারদের ওপর হামলার প্ররোচনা দিচ্ছেন। দিল্লির নির্বাচন সদনে এই মর্মে ইতিমধ্যেই অভিযোগ জমা দিয়েছে জোড়াফুল শিবির।
লক্ষ্য শশী পাঁজা ও মদন মিত্র?
তৃণমূলের অভিযোগ, দিলীপ ঘোষ তাঁর বিবৃতিতে সরাসরি শ্যামপুকুরের বিধায়ক তথা মন্ত্রী শশী পাঁজা এবং কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের বাসভবনে হামলার কথা বলেছেন। ভিডিও বার্তায় তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, “যদি শশী পাঁজার বাড়িতে হামলা হতে পারে, তবে একই ঘটনা কালীঘাট এবং মদন মিত্রের বাড়িতেও ঘটতে পারে।” শুধু তাই নয়, কালীঘাট ও চেতলা এলাকার সাধারণ মানুষকেও তিনি প্রকারান্তরে ভয় দেখাচ্ছেন বলে দাবি ঘাসফুল শিবিরের।
‘বাইরের লোক লাগে না, আমরাই পিটিয়ে দেব’
তৃণমূলের দেওয়া অভিযোগপত্রে দিলীপ ঘোষের যে বয়ান উল্লেখ করা হয়েছে, তা যথেষ্ট বিতর্কিত। তিনি দাবি করেছেন, তৃণমূল কর্মীদের ‘কেলাতে’ তাঁদের বাইরের লোক লাগে না, বিজেপির কর্মীরাই তার জন্য যথেষ্ট। তাঁর এই হুঙ্কারকে নির্বাচনী আচরণবিধির (MCC) চরম লঙ্ঘন এবং ভোটারদের ভয় দেখানোর সুপরিকল্পিত ছক হিসেবে দেখছে তৃণমূল।
কমিশনের কাছে ছয় দফা দাবি
১. দিলীপ ঘোষকে অবিলম্বে শোকজ (Show Cause) নোটিস পাঠানো হোক।
২. ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩ ৫১ ও ১০৯ ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দেওয়া হোক।
৩. ভবিষ্যতে এ ধরনের প্ররোচনামূলক মন্তব্য করা থেকে তাঁকে বিরত রাখা হোক।
৪. শশী পাঁজা এবং মদন মিত্রের বাসভবনে অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হোক।
৫. বিজেপি নেতৃত্বের কাছেও এই বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হোক।
৬. সোশ্যাল মিডিয়া ও নিউজ প্ল্যাটফর্ম থেকে আপত্তিকর ভিডিওগুলি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হোক।
দিলীপ ঘোষের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ করে, এখন সেটাই দেখার। বাংলায় দুই দফায় ভোট ঘোষণা করা হয়েছে। এপ্রিলের ২৩ এবং ২৯ তারিখ ভোট হবে রাজ্যে। ৪ মের ফল ঘোষণা। তার আগে এই কাদা ছোড়াছুড়ি যে আরও বাড়বে, তা প্রত্যাশিত।