ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা সরব। তাঁদের দাবি, কলেজে এখন পড়াশোনা নয়, চলে ক্ষমতার খেলা।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 8 July 2025 16:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোনারপুর মহাবিদ্যালয়ে (Sonarpur Mahavidyalaya) ফের ছাত্র রাজনীতির নামে ক্ষমতার দাপট? কসবা কাণ্ডের পর স্বাভাবিকভাবেই এই প্রশ্ন উঠছে কারণ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ঘিরে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। কী রয়েছে সেই ভিডিওতে?
কলেজের এক রুমে এক ছাত্রীকে দিয়ে মাথা টেপাচ্ছেন বছর এক ছাত্র। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে এমনই। দাবি, যে যুবক ওই কাজ করাচ্ছেন তিনি প্রতীক কুমার দে, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কোঅর্ডিনেটর (TMCP Leader)। এই ঘটনার জেরে কলেজের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
প্রতীকের পরিচয়ও যথেষ্ট ‘দামি’। তিনি শুধু ছাত্র পরিষদের কোঅর্ডিনেটরই নন, রাজপুর টাউন তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি এবং সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতিও। অভিযোগ, বিধায়ক লাভলি মৈত্রর সরাসরি মদতেই এতগুলি পদে আসীন প্রতীক। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, বারুইপুর কলেজের প্রাক্তন ছাত্র হয়েও সোনারপুর কলেজের অভ্যন্তরে কীভাবে এমন প্রভাব খাটান তিনি?
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা সরব। তাঁদের দাবি, কলেজে এখন পড়াশোনা নয়, চলে ক্ষমতার খেলা। এক বিরোধী দলের নেতার কথায়, “প্রতীক লাভলি মৈত্রর ‘ঘনিষ্ঠ’, সে কারণে কলেজে ঢুকেও এমন কাণ্ড ঘটাতে সাহস পায়। ছাত্ররাজনীতি আজ ব্যক্তি দাপটের অস্ত্র হয়ে উঠেছে।”
এখানেই থেমে নেই বিতর্ক। সোনারপুর পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর পাপিয়া হালদার পুরনো অভিযোগ টেনে এনে বলেন, “আমি আগেই বলেছিলাম, প্রতীক মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্থা করেছিল। তখন কেউ গুরুত্ব দেয়নি। আজকের ভিডিও প্রমাণ করল, ওর অভ্যাস বদলায়নি। দলীয় নেতৃত্বকে আবার সব জানিয়েছি। দেখার এখন, তারা কী করেন।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজ চত্বরে চাপা উত্তেজনা। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, কলেজ কি ছাত্র-ছাত্রীদের জায়গা, নাকি ক্ষমতার ‘ব্যক্তিগত খেলা’র মঞ্চ হয়ে উঠেছে? তৃণমূল নেতৃত্ব এখনও পর্যন্ত মুখ না খুললেও, দলীয় অন্দরমহলে ঘটনার প্রভাব স্পষ্ট।