ঘটনার জেরে তীব্র বিতর্ক শুরু হলেও, জেলা তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখনও পর্যন্ত মুখে কুলুপ এঁটেছে। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ঘটনা নদিয়ায় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বেরই প্রতিফলন।

সাংবাদিক বৈঠকে রানাঘাট দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক।
শেষ আপডেট: 27 August 2025 21:27
দ্য ওযাল ব্যুরো: "টাকা দে, পদ নে!" — এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য শোনা যাচ্ছে একটি ভাইরাল অডিও ক্লিপে (Viral Audio)। যার জেরে উত্তাল নদিয়ার রাজনৈতিক মহল। কাঠগড়ায়- রানাঘাট দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক তথা যুব তৃণমূলের নদিয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি ডা: মুকুটমণি অধিকারী (Nadia Tmc MLA protests)।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে একটি কল রেকর্ডিং। অভিযোগ, ওই অডিওতে শোনা যাচ্ছে, বিধায়কের আপ্ত সহায়ক ‘প্রিন্স’-এর মাধ্যমে ব্লক ও টাউন সভাপতির পদ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা তোলা হচ্ছে। অডিওতে এক ব্যক্তি বলছেন, “মুকুটের লোক ব্লক সভাপতি করতে ৩ লক্ষ টাকা চাইছে।” পাল্টা আরেকজনের প্রতিক্রিয়া, “এতদিন পার্টি করার পর এ পরিণাম! টাকার বিনিময়ে পদ পেলে দলের আর গুরুত্ব কোথায় থাকবে?”
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি। তাদের অভিযোগ, যুব সংগঠনের ভিতরেই চলছে 'পদ বিক্রির বাজার'। কেউ কেউ সরাসরি আঙুল তুলেছেন শাসক দলের নীতির দিকেই।
তবে যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিধায়ক মুকুটমণি অধিকারী। বুধবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, “অডিওটি সম্পূর্ণ ভুয়ো। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার নামে কুৎসা রটানো হচ্ছে।” তাঁর কথায়, “কিছু মিডিয়া অর্থের বিনিময়ে বিক্রি হয়ে মিথ্যে অপপ্রচার করছে। এই অপসংস্কৃতির তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমি আইনি পথে এর মোকাবিলা করব।”
তিনি আরও বলেন, “যে দুই জনের কথোপকথন ভাইরাল হয়েছে, তাঁদের সঙ্গে আমার কোনও যোগ নেই। আমার আপ্ত সহায়কের নাম নেওয়া হলেও, গলা মিলছে না। উদ্দেশ্য একটাই— আমাকে কালিমালিপ্ত করা।”
ঘটনার জেরে তীব্র বিতর্ক শুরু হলেও, জেলা তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখনও পর্যন্ত মুখে কুলুপ এঁটেছে। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ঘটনা নদিয়ায় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বেরই প্রতিফলন।