বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ‘‘একটি নিষ্পাপ প্রাণের উপর যে বর্বরতা চালানো হয়েছে, তা সমাজের বিবেককে নাড়িয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। এমন অপরাধে ন্যূনতম সহানুভূতির জায়গা নেই।’’

প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 27 August 2025 20:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিউটাউনের লোহাপুলের ঝোপ থেকে উদ্ধার হওয়া অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীর ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় (Newtown Minor Rape and murder) অবশেষে ন্যায় পেল নির্যাতিতা। ঘটনার মাত্র ছ’মাসের মধ্যে (Trial in six months) বুধবার দোষী সাব্যস্ত করা হল নদিয়ার বাসিন্দা টোটোচালক সৌমিত্র রায়কে। বারাসতের পকসো আদালত তাঁকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের (Life Imprisonment) নির্দেশ দিল। পাশাপাশি দেড় লক্ষ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।
চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে গৌরাঙ্গনগরের বাড়ি থেকে অভিমানে বেরিয়ে গিয়েছিল ১৪ বছরের কিশোরী। জানা গিয়েছে, বোনের সঙ্গে ঝগড়ার জেরে বাড়ি ছেড়েছিল সে। যাওয়ার আগে মায়ের উদ্দেশে একটি চিঠিও লিখে যায়। রাতের অন্ধকারে জগৎপুরের কাছে ক্লান্ত হয়ে পড়লে বাড়ি ফেরার জন্য একটি টোটো ধরেছিল সে। সেই টোটোচালকই ছিল সৌমিত্র রায়।
নির্যাতিতাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে টোটোয় তুলে নেয় সৌমিত্র। কিন্তু বাড়ি ফেরা হয়নি আর। পরদিন, ৭ ফেব্রুয়ারি সকালে নিউটাউনের লোহাপুল খাল সংলগ্ন ঝোপ থেকে অর্ধনগ্ন অবস্থায় উদ্ধার হয় কিশোরীর নিথর দেহ। গায়ে ছিল একটি নীল-খয়েরি হুডি। শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন এবং রক্তের দাগ ছিল। ময়নাতদন্তে ধর্ষণের প্রমাণ মেলে।
তদন্তে নামে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট। একের পর এক সিসিটিভি ফুটেজ ঘেঁটে ৮ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত সৌমিত্রকে। আদালতে পেশ করা হয় মেডিক্যাল রিপোর্ট, ডিজিটাল এবং বায়োলজিক্যাল প্রমাণ। তদন্তকারীদের দাবি, ধারাবাহিক জেরায় নিজের অপরাধ স্বীকারও করে নেয় সৌমিত্র। জানায়, কিশোরীকে নিয়ে নিউটাউনের বিভিন্ন এলাকা ঘোরার পর লোহাপুল এলাকায় নিয়ে গিয়ে নৃশংস ঘটনা ঘটায় সে।
আদতে নদিয়ার রানাঘাটের বাসিন্দা সৌমিত্র ওরফে রাজ নিউটাউনের আদর্শপল্লিতে ভাড়া থাকতেন। মাত্র ছ’মাসে সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং চার্জশিট গঠনের কাজ শেষ করে আদালত সাজা ঘোষণা করায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নির্যাতিতার পরিবার।
বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ‘‘একটি নিষ্পাপ প্রাণের উপর যে বর্বরতা চালানো হয়েছে, তা সমাজের বিবেককে নাড়িয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। এমন অপরাধে ন্যূনতম সহানুভূতির জায়গা নেই।’'