বুধবার সকাল থেকেই এই বাঁশের সাঁকো হয়ে উঠেছে এলাকার মানুষের প্রাণের সেতু। শিশু থেকে বৃদ্ধ — সকলে এখন এই সাঁকো দিয়েই পারাপার করছেন। কেউ যাচ্ছেন কাজে, কেউ পরিবারকে দেখতে, কেউ আবার বিপর্যস্তদের জন্য সাহায্য পৌঁছে দিচ্ছেন।

শেষ আপডেট: 15 October 2025 19:12
সায়ন সাহা, দুধিয়া: বিপর্যয়ের পর ১২ দিন পেরিয়েছে। এখনও দুধিয়ার ছবিতে কোনও পরিবর্তন আসেনি। ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর থেকে দুধিয়া-গয়াবাড়ি সংযোগ ছিন্ন হয়ে আছে। ভেঙে যাওয়া সেতু পুরোপুরি থামিয়ে দিয়েছে জীবনের ছন্দ। পারাপার নেই। ফলে রুটিরুজিও থমকে।
বালাসন নদীর একধারে দুধিয়া। অন্য়পারে গয়াবাড়ি। এই বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার প্রথম শর্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার। সেটাই এখন দুধিয়া ও গয়াবাড়ির মানুষের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। লোহাপুল ভেঙে যাওয়ার পর দুই প্রান্তের মধ্যে যাতায়াত কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। অনেক পরিবারই নদীর দুই পারে বিভক্ত। কারও ছেলে বা ভাই গয়াবাড়িতে, কারও মা বা বোন দুধিয়ায়। দিন গুনছিলেন কবে দেখা হবে প্রিয়জনের সঙ্গে, কবে পাড়ি দেওয়া যাবে নদীর ওপারে। অবশেষে, সেই অপেক্ষার প্রহর কিছুটা কমালেন স্থানীয় যুবকেরা। প্রশাসনিক সাহায্যের অপেক্ষা না করেই তারা নিজ উদ্যোগে তৈরি করে ফেলেছেন বাঁশের সাঁকো। নদীর গতিপথ, জলের প্রবাহ ও গভীরতা বিবেচনা করে এক নয়, দুটি সাঁকো বানানো হয়েছে বালাসনের ওপর। বুধবার সকাল থেকেই এই বাঁশের সাঁকো হয়ে উঠেছে এলাকার মানুষের প্রাণের সেতু। শিশু থেকে বৃদ্ধ — সকলে এখন এই সাঁকো দিয়েই পারাপার করছেন। কেউ যাচ্ছেন কাজে, কেউ পরিবারকে দেখতে, কেউ আবার বিপর্যস্তদের জন্য সাহায্য পৌঁছে দিচ্ছেন।
দুধিয়ার এক প্রান্ত থেকে দেখা যায়, নদীর ওপারে গয়াবাড়ি গ্রামের মানুষ হাত নেড়ে আহ্বান জানাচ্ছেন আত্মীয়স্বজনদের। বহুজনের চোখে জল । ১২ দিন পর প্রিয়জনকে কাছ থেকে দেখতে পেয়েছেন। গ্রামের প্রবীণ এক বাসিন্দা বলেন, “আমাদের ছেলেরা যে কাজ করেছে, তাতে বেঁচে থাকার ভরসা ফিরে পেলাম। প্রশাসনও কাজ করছে, কিন্তু এতদিন তো নদীর ওপারে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।”তবে এই স্বস্তির মধ্যে উদ্বেগও আছে। কারণ বাঁশের সাঁকোতে যতই আবেগ থাক, তা অস্থায়ী। ভারী বৃষ্টি বা জলের স্রোত বেড়ে গেলে আবার বিপদ হতে পারে। তাই সকলের চোখ এখন বিকল্প ব্রিজ কবে তৈরি হবে, সেই দিকে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ধাপে ধাপে কাজ চলছে। তবে নদীর খরস্রোত ও দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে কাজটি সময়সাপেক্ষ। জীবনের হারানো ছন্দ ফেরাতে গ্রামের মানুষ অবশ্য এখন সেতু কবে তৈরি হবে, সেদিকেই তাকিয়ে।