দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাউন্টডাউন শুরু হয়েছিল ১২টা ৪৫ মিনিট থেকে। বেলা সোয়া ১টা। উল্লাস করে উঠলেন ইসরোর মহাকাশবিজ্ঞানীরা। ঠিক এই সময়েই চাঁদের পঞ্চম কক্ষপথে চন্দ্রযান ২ থেকে আলাদা হয়ে গেল ল্যান্ডার ‘বিক্রম।’
ইসরো জানিয়েছে, গতি কমিয়ে এর পর ধীরে ধীরে চাঁদ মুলুকের আরও কাছাকাছি পৌঁছবে সে। চন্দ্রপৃষ্ঠের ১০০ কিলোমিটার উপর থেকে চাঁদকে পাক খাবে চার দিন। তারপর সফট ল্যান্ডিং হবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে।
https://twitter.com/isro/status/1168433881109819392
শ্রীহরিকোটার সতীশ ধবন মহাকাশ গবেষণাকেন্দ্রের দ্বিতীয় লঞ্চপ্যাডকে গুডবাই জানিয়েছিল ২২ জুলাই। এক মাসের মাথায় ২০ অগস্ট পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের মায়া কাটিয়ে ঢুকে গিয়ছিল লুনার অরবিট অর্থাৎ চাঁদের কক্ষপথে। একটার পর একটা কক্ষপথের বেড়াজাল কাটিয়ে ভারতের চন্দ্রাভিযান আজ, সোমবার সাফল্যের প্রথম সিঁড়িতে পা রাখল। ৪৩ দিনের মাথায় আজই ল্যান্ডার ‘বিক্রম’কে নিজের থেকে আলাদা করল চন্দ্রযান ২। পেটের ভিতর রোভার ‘প্রজ্ঞান’কে পুরে সে এবার এগিয়ে চলেছে চাঁদের আরও কাছাকাছি।
লুনার অরবিটে যে যে পথে এগিয়ে গেছে চন্দ্রযান..
• ২০ অগস্ট সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে লিকুইড চেম্বার ইজেক্ট করে চাঁদের প্রথম কক্ষপথ ১৮০৭৮ কিলোমিটারে ইনসারশন হয়েছিল চন্দ্রযান ২-এর। সময় লেগেছিল ১৭৩৮ সেকেন্ড।
• পরদিন ২১ অগস্ট, বেলা ১২টা ৫০ মিনিট নাগাদ ১১৪ কিলোমিটার*১৮০৭২ কিলোমিটার প্রথম কক্ষপথ ছেড়ে পা রাখে ১১৮ কিলোমিটার*৪৪১২ কিলোমিটার দ্বিতীয় কক্ষপথে। এই সফরে সময় লেগেছিল ১২২৮ সেকেন্ড।

• ২৮ অগস্ট সকাল ৯টা ৪ মিনিটে হই হই করে চাঁদের তৃতীয় কক্ষপথে ঢুকে পড়ে চন্দ্রযান ২। তৃতীয় কক্ষের ১৭৯*১৪১২ কিলোমিটার পরিধিতে সফল ইনসারশনে সময় লাগে ১,১৯০ সেকেন্ড।
• ৩০ অগস্ট, সন্ধ্যা ৬টা ১৮ মিনিটে চাঁদের উপবৃত্তাকার তৃতীয় কক্ষপথ ছেড়ে বেরিয়ে যায় চন্দ্রযান। এগিয়ে যায় ১২৪*১৬৪ কিলোমিটার চতুর্থ কক্ষের দিকে।
• হাই ফাইভ পূর্ণ করে গতকাল, ১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ২১ মিনিটে। ঠিক ৫২ সেকেন্ডের মাথায় পাঁচ নম্বর কক্ষপথে নিখুঁত ভাবে ইনসারশন হয় চন্দ্রযানের। এটাই শেষ কক্ষপথ। এ বার চাঁদের মাটিতে নামার অপেক্ষা।
৭ সেপ্টেম্বরের আগে কী কী হতে চলেছে...
আজ,
২ সেপ্টেম্বর বেলা ১২টা ৪৫ মিনিট থেকে ১টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে চন্দ্রযান থেকে আলাদা হলো ল্যান্ডার বিক্রম। সফট ল্যান্ডিংয়ের জন্য ছক সাজানো শুরু করে দিয়েছে সে।
৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে এবং ৪ সেপ্টেম্বর ভোররাত ৩টে থেকে ৪টের মধ্যে দু’দফায় বিক্রমের পথ বদল করা হবে। কক্ষপথ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার এটি বিশেষ পক্রিয়া (Deorbit Manoeuvres) । এর পর শুরু হবে চাঁদকে ঘিরে পরিক্রমা।
[caption id="attachment_137987" align="aligncenter" width="624"]
ল্যান্ডার ‘বিক্রম’।[/caption]
৬ সেপ্টেম্বর রাত ১টা ৫৫মিনিটে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে (৭০ ডিগ্রি অক্ষাংশ) পালকের মতো নেমে যাবে ল্যান্ডার ‘বিক্রম’।
৭ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৫টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে ল্যান্ডার ‘বিক্রম’ থেকে বেরিয়ে যাবে রোভার ‘প্রজ্ঞান’। চাঁদের মাটিতে ঘুরে ঘরে শুরু করবে কাজ।
[caption id="attachment_138062" align="aligncenter" width="609"]
ল্যান্ডার ‘বিক্রম’ থেকে এ ভাবেই বেরিয়ে আসবে রোভার ‘প্রজ্ঞান।’ ইলাস্ট্রেশন: ইসরো[/caption]
চাঁদের কক্ষপথ পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে ৩ লক্ষ ৮২ হাজার কিলোমিটার দূরে। ইসরোর বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, নামার আগে আরও চার দিন চাঁদকে প্রদক্ষিণ করবে ল্যান্ডার। তার পর ধীরেসুস্থে নামবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে (৭০ ডিগ্রি অক্ষাংশ) । ইজেক্ট করবে ২৭ কেজি ওজনের ৬ চাকার রোভার ‘প্রজ্ঞান’কে। চাঁদের মাটিতে ঘুরে ঘুরে ছবি ও তথ্য পাঠাবে সে।
চাঁদের এক পক্ষকাল সময় অর্থাৎ ১৪ দিন ধরে কাজ করতে পারবে ‘বিক্রম।’ রোভারও সচল থাকবে ১৪ দিন ধরে। প্রতি বারে ১৫০-২০০ মিটার অবধি গুটি গুটি পায়ে এগোতে থাকবে সে। পরীক্ষামূলক ভাবে চাঁদের মাটি, তার রাসায়নিক উপাদানের কাটাছেঁড়া করতে পারবে। প্রতি ১৫-২০ মিনিট অন্তর অরবিটারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য গ্রাউন্ড স্টেশনে পাঠাবে রোভার।