
শেষ আপডেট: 4 November 2022 12:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাড়ে তিন বছরের শিশুসন্তান। তাকে কোলে নিয়েই সর্বসাধারণের উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন (holding son while giving speech) সরকারি উচ্চপদস্থ আমলা (Bureaucrat)। সেই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে নেটমাধ্যমে, যাকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সন্তানকে কোলে নিয়ে এভাবে অনুষ্ঠানে আসা যায় কিনা, তাই নিয়ে বর্তমানে দ্বিধাবিভক্ত নেটিজেনরা।
ঘটনাটি ঘটেছে কেরলের (Kerala) তিরুঅনন্তপুরমে। সেখানকার পাঠানমথিত্তা জেলার সংগ্রাহক দিব্যা এস আইয়ার সম্প্রতি একটি বেসরকারি চলচ্চিত্র উৎসবে ভাষণ দিয়েছিলেন। সেই সময় তাঁর কোলে ছিল তাঁর ৩ বছর বয়সি শিশুপুত্র। মঞ্চের উপর বসে বক্তৃতা দেওয়ার সময় শ্রীমতি আইয়ারকে সন্তানকে আদর করতে, তার সঙ্গে সস্নেহে কথা বলতে দেখা যায়। আদুরের ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের শেষ দিনে ঘটা এই ঘটনার ভিডিও নিজের ফেসবুক পেজে শেয়ার করেছিলেন উৎসবটির অন্যতম উদ্যোক্তা এবং কেরলের বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার চিত্তায়ম গোপাকুমার। এরপরই শুরু হয় বিতর্ক।
যদিও, গত ৩০ অক্টোবর পোস্ট করা সেই ভিডিও পরে নিজের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে ডিলিট করে দেন গোপাকুমার। কিন্তু ততক্ষণে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে দাবানলের মতো। অনেকেরই দাবি, জনসভা চলাকালীন মঞ্চে সন্তানের সঙ্গে খুনসুটি কাম্য নয়। তাঁর মতো উচ্চপদস্থ একজন সরকারি আমলার ক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনা অনভিপ্রেত বলেই দাবি নেটিজেনদের একাংশের।
যদিও অনেকেই এই ঘটনায় দিব্যার পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর স্বামী-সহ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের অনেকেরই দাবি, মহিলারা যে একা হাতে একাধিক দায়িত্ব সামলান, এই ঘটনা তার প্রমাণ। তাঁদের অভিমত, একজন উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিক হওয়ার পাশাপাশি তিনি একজন স্নেহশীলা মা-ও, যাঁর সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে নিজের সন্তানের সঙ্গে সময় কাটানোর।
দিব্যার স্বামী কেএস শবরীনধান কেরলের যুব কংগ্রেসের প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং বিধানসভার সদস্য। এই ঘটনায় স্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে তিনি জানিয়েছেন, চলচ্চিত্র উৎসবের ওই অনুষ্ঠানটি একটি ছুটির দিনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এটি একটি 'আনঅফিসিয়াল' অনুষ্ঠান হওয়ায় সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী।
নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও জানিয়েছেন, দিব্যা একজন অত্যন্ত কর্মনিষ্ঠ এবং সৎ আধিকারিক, যিনি কাজের দিনগুলিতে অফিসেই ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু ছুটির দিনগুলি নিজের পরিবারের সঙ্গে কাটাতেই পছন্দ করেন দিব্যা। সেই সময় তিনি বাইরে বেরোনো, বা কোনও অনুষ্ঠানে যাওয়া সাধারণত এড়িয়ে যান। তবে এমন কিছু অনুষ্ঠান থাকে যেগুলি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। সেগুলির ক্ষেত্রে তিনি উদ্যোক্তাদের আগেই জানিয়ে দেন, যে, সন্তানকে সঙ্গে নিয়েই সেখানে যাবেন তিনি, জানিয়েছেন শবরীনধান।
প্রসঙ্গত, এর আগে ২০১৮ সালে একই ধরনের ঘটনায় সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডেন। জাতিসঙ্ঘের সাধারণ সভায় তিন মাসের কন্যাসন্তানকে নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি। সেখানে যতক্ষণ তিনি ভাষণ দিয়েছিলেন, তাঁর সঙ্গী ক্লার্ক গেফোর্ডকে সন্তানকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। নজিরবিহীন সেই ঘটনা পরেরদিন সারা বিশ্বের তাবড় তাবড় সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় উঠে এসেছিল।
ডান দিকে হার্ট, কালনার কিশোরের চিকিৎসা করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় ডাক্তারবাবুদের