২০২২ সালের ৪ঠা এপ্রিল নদিয়ার এক গ্রামে ব্রজ গয়ালির বাড়িতে জন্মদিনের পার্টির নামে ১৪ বছরের এক কিশোরীকে মদ খাইয়ে গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 23 December 2025 14:07
দ্য় ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া: হাঁসখালিতে নাবালিকাকে গণধর্ষণ করে খুনের (Hanskhali Rape and Murder Case) মামলায় সাজা শোনাল রানাঘাট আদালত (Ranaghat Court)। সোমবার এই মামলায় এই ৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল রানাঘাটের বিশেষ পকসো আদালত। মঙ্গলবার সাজা ঘোষণা হল।
তৃণমূল নেতার ছেলে সোহেল (ব্রজ) গয়ালি সহ ৩ জন প্রভাকর পোদ্দার এবং রণজিৎ মল্লিককে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। সোহেলের বাবা তথা তৃণমূল নেতা সমরেন্দ্র গয়ালি, দীপ্ত গয়ালি এবং আরও এক জনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ৯ জনের মধ্যে একজন ঘটনার সময় নাবালক ছিলেন। তাঁকে আপাতত জামিনে দিয়ে নজরদারিতে রাখা হবে। এক বছর পর আদালত তাঁর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।
তবে এই রায়ে খুশি নন নির্যাতিতার পরিবার। নির্যাতিতার মায়ের গলায় ঝরে পড়ল হতাশার সুর। তিনি বলেন, "জজসাহেবে এই রায়ে খুশি হতে পারলাম না। আমরা ওদের ফাঁসি চেয়েছিলাম। যদি ফাঁসি হত, তাহলে খুশি হতাম। আমার মেয়েটাকে নিয়ে আমার কত স্বপ্ন ছিল। ওই নরপশুগুলি সব শেষ করে দিল।"
২০২২ সালের ৪ঠা এপ্রিল নদিয়ার (Nadia) এক গ্রামে ব্রজ গয়ালির বাড়িতে জন্মদিনের পার্টির নামে ১৪ বছরের এক কিশোরীকে মদ খাইয়ে গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। প্রবল রক্তক্ষরণের জেরে পরদিন ভোরে বাড়িতেই তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর কোনও চিকিৎসকের শংসাপত্র ছাড়াই তড়িঘড়ি গ্রামের এক অ-নথিভুক্ত শ্মশানে দেহ দাহ করা হয়। অভিযোগ ওঠে, শাসক দলের একাংশের চাপেই এমনটা হয়েছিল।
ঘটনার চার দিন পর কিশোরীর মা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। প্রথমে রাজ্য পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও পরে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ১৪ এপ্রিল মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে যায়। সিবিআই ৮৫ দিনের মধ্যে ২০৯ পাতার চার্জশিট জমা দেয়।
দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া শেষে তিন বছর আট মাস ন'দিন পর সোমবার অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ে ন্যায়বিচারের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রান্ত হল।
বিচারক সৌমেন গুপ্তর এজলাসে মামলার এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবেন বলে জানিয়েছেন আসামীদের আইনজীবী।