প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী বারাণসী-কলকাতা এক্সপ্রেসওয়ে পুরুলিয়া দিয়ে রাজ্যে প্রবেশ করে বাগনানে বম্বে রোডের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাজ্য সরকার নতুন প্রস্তাব দেয়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 25 October 2025 14:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) হুগলি নদীর (Hooghly River) ওপরে তৈরি হতে চলেছে এক নতুন সেতু, যা বারাণসী-কলকাতা চার লেনের এক্সপ্রেসওয়ে (Varanasi Kolkata Expressway) প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে। পিডব্লিইডি (PWD) সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হবে হাওড়ার বাগনান এলাকায়, যা নদীর অপর প্রান্তে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুজালি অঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে।
বর্তমানে কলকাতায় (Kolkata) হুগলি নদীর উপর তিনটি প্রধান সেতু রয়েছে — স্বাধীনতার আগে তৈরি ঐতিহ্যবাহী হাওড়া ব্রিজ (রবীন্দ্র সেতু), এনএইচ-২ (বম্বে রোড) যুক্ত বিদ্যাসাগর সেতু, এবং এনএইচ-২ (দিল্লি রোড) যুক্ত নিবেদিতা সেতু। নতুন সেতুটি এই তিনটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে নদীর উপর দিয়ে যাওয়া চতুর্থ সেতুু হতে চলেছে।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী বারাণসী-কলকাতা এক্সপ্রেসওয়ে (Varanasi Kolkata Expressway) পুরুলিয়া দিয়ে রাজ্যে প্রবেশ করে বাগনানে বম্বে রোডের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাজ্য সরকার নতুন প্রস্তাব দেয় যে, বাগনান থেকে পুজালি পর্যন্ত হুগলি নদীর উপর সেতু নির্মাণ হোক। সূত্র মারফৎ জানা গেছে, কেন্দ্র এই প্রস্তাব অনুমোদন করেছে, যদিও চূড়ান্ত রুট এখনও স্থির হয়নি।
প্রায় ৬২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়ে (Varanasi Kolkata Expressway) পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর ও হুগলি হয়ে কলকাতায় প্রবেশ করবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে জাতীয় মহাসড়ক কর্তৃপক্ষ (NHAI), আর জমি অধিগ্রহণের দায়িত্ব রাজ্য সরকারের। ৬২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে খরচ হবে প্রায় ১৬ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা।
এই সড়ক চালু হলে বারাণসী থেকে কলকাতা ভ্রমণের সময় ১২–১৪ ঘণ্টা থেকে কমে প্রায় ৬ ঘণ্টা হয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। তবে নতুন সেতু ও রুট সংশোধনের কারণে পুরো প্রকল্প সম্পূর্ণ হতে আরও এক বছর বা তার বেশি সময় লাগতে পারে।
রাজ্য প্রশাসনের মতে, নতুন এক্সপ্রেসওয়ে ও হুগলির প্রস্তাবিত সেতুটি শুধু যাত্রার সময় কমাবে না, বরং কলকাতা–দিল্লি সংযোগকারী ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোডের যানজটও অনেকটা কমে যাবে।