সরকারি সূত্রে বলা হচ্ছে, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বয়সের উর্ধ্বসীমার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার একটা ব্যবস্থার (ssc recruitment age relaxation formula) কথা ভাবা হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 27 May 2025 18:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাকরিহারা শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের নিয়োগের (SSC New Recruitment) ক্ষেত্রে বয়সের উর্ধ্বসীমায় ছাড় (age relaxation) দেওয়া হবে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
মঙ্গলবার নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "চাকরিহারাদের অনেকের বয়স পেরিয়ে গেছে, এদের ক্ষেত্রে আমরা বয়সের উর্ধসীমায় ছাড় দেব, যাতে তাঁরা পরীক্ষায় বসতে পারেন।" কাজের অভিজ্ঞতার নিরিখেও চাকরিহারাদের আলাদা করে অ্যাডভান্টেজ দেওয়া হবে বলেও এদিন জানান মুখ্যমন্ত্রী।
সরকারি সূত্রে বলা হচ্ছে, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বয়সের উর্ধ্বসীমার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার একটা ব্যবস্থার (ssc recruitment age relaxation formula) কথা ভাবা হয়েছে। যাঁরা আগে চাকরি করতেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ফলে চাকরি হারিয়েছেন, তাঁদের বয়স যাই হোক আবেদন করতে পারবেন। ধরা যাক, কোনও চাকরিহারার বয়স ৪৬। তিনিও নতুন নিয়োগের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "আমরা চাই না কারও চাকরি চলে যাক। কারণ, কেউ ব্যাঙ্ক থেকে লোন নিয়ে বাড়ি করেছেন, কারও বৃদ্ধ বাবা-মা রয়েছেন, চিকিৎসার খরচ জোগাতে হয়। তাই প্রত্যেকের যাতে কাজ থাকে, সরকার সেটা যথাসাধ্য চেষ্টা করবে।"
এজন্য গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি কর্মীদের পাশাপাশি নবম দশম ও একাদশ দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষকদের জন্য অতিরিক্ত পদও তৈরি করা হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডির জন্য আমরা অন্য ব্যবস্থা করব। তিন চারটে ডিপার্টমেন্টকে বেছে নেব। সেখানে চাকরিহারাদের ব্যবস্থা করা যায় কিনা দেখা হবে।' মমতা এও বলেন, 'সুপ্রিমকোর্ট বলেছে আপনারা আলাদা করে পোস্ট ক্রিয়েট করতে পারেন।"
নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে এসএসসির ২০১৬ সালের আস্ত প্যানেল বাতিল করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। যার ফলে চাকরিহারা প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী। ৩১ মের মধ্যে শিক্ষকদের শূন্য পদে নিয়োগের জন্য রাজ্যকে বিজ্ঞপ্তি জারির নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের সেই নির্দেশ মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাজ্য নোটিফিকেশন জারি করবে বলে এদিনের সাংবাদিক বৈঠক থেকে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "মনে রাখবেন, আমাদের হাত পা বাঁধা। আমরা কিন্তু চাকরি বাতিল করিনি। কিছু স্বার্থপর লোক কোর্টে গিয়ে চাকরি বাতিল করিয়েছে। এখন তারা আবার বন্ধু সাজার চেষ্টা করছে।"
মমতা এও বলেন, আমরা যারা সরকারে থাকি তাদের সংবিধান মেনে চলতে হয়, আইন মেনে চলতে হয়। তাই আদালতের নির্দেশ মেনে আমরা একদিকে যেমন নিয়োগ প্রক্রিয়াও চালু রাখছি তেমনই রিভিউ পিটিশনের দিকেও খেয়াল রাখছি। গরমের ছুটির পর কোর্ট খুললে রিভিউ পিটিশনের শুনানি হবে।"
চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষকদের মঞ্চের তরফে আগেই বলা হয়েছে তাঁরা পুনরায় পরীক্ষায় বসবেন না। এ ব্যাপারে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "রিভিউয়ের জন্য আমাদের অপেক্ষা করা উচিত। পরীক্ষা দেব না, এটা এখনই বলা ঠিক নয়। বরং আপনারা সুপ্রিমকোর্টের অপশন ১ এবং অপশন ২ দুটোকেই কাজে লাগান।"
মমতা এও বলেন, "বিচারের দায়িত্ব তো বিচারপতিদের হাতে, তবে আমরা আদালতের কাছে মানবিকভাবে চাকরিহারাদের কথা তুলে ধরব, যাতে তাঁদের লিস্টটা বাতিল না হয়, চাকরিতে সুযোগ পায়। যদি না পান, তাহলে ডিসেম্বর পর্যন্ত স্কুলে যান। পরীক্ষাটাতেও বসুন, বয়সে ছাড়, অভিজ্ঞতাও দেখা হবে, যথাযোগ্য জায়গায় মর্যাদা সহকারে নিশ্চয়ই আপনাদের ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে।"
চাকরিহারাদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী এও বলেন, "কাকে কান নিয়ে পালিয়েছে বলে আমরা যেন না দৌড়াই! নিজের কানে শুনে চাকরিটাকে বজায় রাখার জন্য যা যা করার করুন, সরকার আপনাদের সঙ্গে ছিলা, আছে, থাকবে।"
এ প্রসঙ্গে ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "ত্রিপুরাতে ১০ হাজার শিক্ষক ছাঁটাই হওয়ার পর চাকরি ফেরত দেয়নি, উল্টে শিক্ষকদের মাথায় লাঠি মেরেছে। উত্তরপ্রদেশে ৬৯ হাজার চাকরি গেছে, ওরা ফেরত দেয়নি। কিন্তু বিচারের বাণী যাতে নীরবে নীভৃতে না কাঁদে তাই আমরা আপনাদের হয়ে লড়ছি।"