
শেষ আপডেট: 9 March 2020 18:30
পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫০০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে রয়েছে এই তারামণ্ডল। সিডনি ইনস্টিটিউট ফর অ্যাস্ট্রোনমির গবেষক সিমন মারফি বলেছেন, এই তারার রাসায়নিক গঠনও অনেকটাই আলাদা। সাধারণত দেখা যায় ভারী ধাতব উপাদানে তৈরি হয় তারাদের শরীর, তবে এই তারার শরীরে ধাতব উপাদানের পরিমাণও অনেক কম। তবে এর উজ্জ্বলতায় কোনও কমতি নেই। রীতিমতো আগুনে তেজ এই তারার।
নাসার ‘প্ল্যানেট হান্টার’ টেস স্যাটেলাইট
দুই তারার এই সংসারে এরা অপরকে ঘিরে ঘুরে চলেছে। নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই তারাদের মধ্যেকার অভিকর্ষজ বলের তারতম্য এবং তাদের উজ্জ্বলতার বাড়াকমার জন্যই মনে হচ্ছে এরা একটু বেশিই স্পন্দিত হচ্ছে। তবে তাদের এই স্পন্দনের সঠিক কারণ খুঁজে বার করছে টেস স্যাটেলাইট।
ব্রিটেনের ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ল্যাঙ্কাশায়ারের জ্যোতির্বিজ্ঞানী ডন কুর্ৎজ বলেছেন, ‘‘৪০ বছর ধরে এমন তারার খোঁজ চালাচ্ছিলাম আমরা। এতদিনে তাকে নাগালে পাওয়া গেছে। টেস স্যাটেলাইট ওই তারামণ্ডলের খুঁটিনাটি সামনে আনার চেষ্টা করছে।’’ আশ্চর্যের বিষয় হল ওই বাইনারি সিস্টেমে লাল বামন তারাটি আকারে-ভরে অনেকটাই ছোট, এর তেজও কম। ক্যানারি আইল্যান্ডের ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের গবেষক ডেভিড জোনস বলেছেন, তারাদের স্পন্দন বুঝতে কখনও তাদের কক্ষপথে নজর রাখা হচ্ছে, আবার কখনও তাদের গঠনের উপর।
গত কয়েক দশক ধরেই মহাকাশের বিভিন্ন তারামণ্ডল ও পৃথিবীর মতো গ্রহের খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছে নাসা। এখনও পর্যন্ত পাঁচশোরও বেশি গ্রহ, বামন গ্রহ ও উপগ্রহের সন্ধান মিলেছে। এর আগে পৃথিবীর মতো দেখতে গ্রহের খোঁজ দিয়েছিল নাসার টেস। পৃথিবীর ওই যমজের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘টিওআই ৭০০ ডি (TOI 700 d)।’ নাসার জেট প্রপালসন ল্যাবোরেটরি ওই নতুন গ্রহের খোঁজ সামনে এনেছিল। নাসা জানিয়েছিল, পৃথিবীর মতো দেখতে এই গ্রহ রয়েছে ‘হ্যাবিটেবল জোন’-এ । পাক খাচ্ছে আমাদের সূর্যেরই মতো একটি নক্ষত্রকে ঘিরে। টেসের পরে স্পিৎজার স্পেস টেলিস্কোপেও ধরা পড়ে পৃথিবীর মতো দেখতে এই গ্রহ। টিওআই ৭০০ বি গ্রহের সঙ্গেই আরও দু’টি গ্রহ টিওআই ৭০০ সি ও টিওআই ৭০০ ডি রয়েছে ‘হ্যাবিটেবল জোন’। এদের নক্ষত্রের আকার সূর্যের চেয়ে ৪০ শতাংশ ছোট। পৃথিবীর মতো দেখতে যাকে সে তার কক্ষপথে সম্পূর্ণ পাক খেয়ে আসে ৩৭ দিনে।