দ্য ওয়াল ব্যুরো : কোভিড অতিমহামারী শুরু হওয়ার পরে দেশ জুড়ে লকডাউন জারি করা হয়। তখনই দেখা যায়, পরিযায়ী শ্রমিকরা দলে দলে শহর থেকে ফিরছেন গ্রামে। তাঁদের সঙ্গে আছে শিশুরা। সাইকেলে, বাসে, লরিতে, ট্রেনে এমনকি হেঁটেও অনেক পরিযায়ী শ্রমিক অতিক্রম করেছেন শত শত মাইল। লকডাউনের জেরে তাঁরা কাজ হারিয়েছেন। তাঁদের পরিবারকে গ্রাস করেছে দারিদ্র। এই সময় বেড়েছে শিশুপাচার। অনেক শিশুকে বেআইনিভাবে নানা কাজে লাগানো হয়েছে। অনেককে পাচার করে দেওয়া হয়েছে দূরে। অনেক শিশুকন্যার বিয়েও হয়ে গিয়েছে।
নারী ও শিশুকল্যাণমন্ত্রক দেশ জুড়ে একটি চাইল্ড হেল্পলাইন চালু করেছে, যার নম্বর ১০৯৮। চলতি বছরে মার্চ থেকে অগাস্ট মাসের মধ্যে চাইল্ড লাইনে ফোন এসেছিল ২৭ লক্ষ। সেই নম্বরে ফোন পেয়ে ত্রাণকর্মীরা ১ লক্ষ ৯২ হাজারটি ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করেছেন। গতবছর একই সময়ে ১ লক্ষ ৭০ হাজারটি ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল।
এপ্রিল থেকে অগাস্ট মাসের মধ্যে নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রকের অফিসাররা ১০ হাজার বাল্যবিবাহের কথা জানতে পেরেছেন। সরকারের নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, প্রতি রাজ্যে ৫০ শতাংশ পুলিশ ডিস্ট্রিক্টে অ্যান্টি হিউম্যান ট্রাফিকিং ইউনিট থাকতে হবে। কিন্তু উত্তরপ্রদেশ বা মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যে তা নেই।
গত ৬ জুলাই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে বিভিন্ন রাজ্যগুলির কাছে আবেদন জানিয়ে বলা হয়, "শিশু ও তরুণরা সহজেই অপরাধীদের ফাঁদে পড়ে। তারা একবার পাচার হয়ে গেলে নানা অন্যায়ের শিকার হয়। অনেককে দিয়ে পতিতাবৃত্তি করানো হয়। অনেককে দিয়ে ভিক্ষা করানো হয়। অনেকের জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়।"
চাইল্ডলাইন ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের যে ত্রাণকর্মীরা পাচার হওয়া শিশুদের উদ্ধার করেছেন, তাঁরা নানা ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়েছেন সংবাদমাধ্যমকে। তাঁরা জানিয়েছেন, রাজস্থানের তিনটি বাস থেকে ১০ টি শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা পাচার হয়ে যাচ্ছিল। পশ্চিমবঙ্গে একটি ১৫ বছরের মেয়ে বিয়ে করবে না বলে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে সে বেঁচে ওঠে। তখন তাকে ফের বিয়ে দেওয়া হয়।
পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনায় কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাইস্কুলের হেডমাস্টার এবং অ্যান্টি ট্রাফিকিং অ্যাকটিভিস্ট চন্দন মাইতি বলেন, তিনি ক্লাস নাইনের একটি মেয়ের কথা জানেন, যে তার সহপাঠীকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছিল। লকডাউনে স্কুল বন্ধ থাকায় তার বর ইলিশ মাছ ধরতে যায়। নৌকা উল্টে সে নিখোঁজ হয়। নিয়মমতো মেয়েটিকে সাত বছর বিধবার বেশ ধারণ করতে হত। রোজ প্রার্থনা করতে হত যাতে তার স্বামী ফিরে আসে। চন্দন মাইতি সংশ্লিষ্ট দু'টি পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। পরে মেয়েটি স্কুলে ফিরে আসে।