বালাকোটে পাঁচটি জইশ শিবির টার্গেট করেছিল মিরাজ-২০০০, উপগ্রহ চিত্রে নাকি ধরা পড়েছে ছবি
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে মঙ্গলবার ভোর রাতে বালাকোটে ঠিক কী ঘটনা ঘটেছিল সেই নিয়ে সংশয় কাটছে না। ভারতীয় সেনার দাবি ছিল, বালাকোটে জইশ-ই-মহম্মদের সবচেয়ে বড় জঙ্গি শিবির ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার মিরাজ-২০০০ যুদ্ধবিমান।
শেষ আপডেট: 3 March 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে মঙ্গলবার ভোর রাতে বালাকোটে ঠিক কী ঘটনা ঘটেছিল সেই নিয়ে সংশয় কাটছে না। ভারতীয় সেনার দাবি ছিল, বালাকোটে জইশ-ই-মহম্মদের সবচেয়ে বড় জঙ্গি শিবির ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার মিরাজ-২০০০ যুদ্ধবিমান। সেই সঙ্গে ধূলিস্যাৎ হয়েছে লস্কর-ই-তৈবা ও হিজবুলের একাধিক জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবির। এর পরেও জলঘোলা হয়েছে অনেক। ভারতীয় বায়ুসেনার দাবি সে দিন বালাকোটে অন্তত পাঁচটি জঙ্গি শিবির টার্গেট করেছিল মিরাজ, সেটা ধরাও পড়েছে উপগ্রহ চিত্রে। যদিও সরকারের তরফে সেই উপগ্রহ চিত্র এখনও সামনে আনা হয়নি, তবে সংবাদ মাধ্যমের হাত ধরে তার কয়েকটি ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
সূত্রের খবর, এই উপগ্রহ চিত্রগুলি নিয়ে যথেষ্ট গোপনীয়তা বজায় রাখছে সরকার। গোয়েন্দা সূত্রে দাবি, ওই দিন নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে পাক আকাশসীমায় প্রায় ২০ কিলোমিটার ঢুকে গিয়েছিল মিরাজ। সাড়ে তিনটে নাগাদ শুরু হয় কার্পেট বম্বিং। মাল্টিরোল ফাইটার জেট মিরাজে সে দিন লোড করা ছিল স্পাইস ২০০০ গ্লাইড বোম (Spice-2000 )। জইশের অন্তত ছ’টি ডেরা টার্গেট করে এই বোম ফেলেছিল মিরাজ।
ইজরায়েলি সংস্থা রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমের তৈরি এই বোম ইজরায়েলের বায়ুসেনা ব্যবহার করতে শুরু করে ২০০৩ সালে। যুদ্ধবিমান থেকে নিখুঁত নিশানায় ভূমিতে যে কোনও টার্গেটে ফেলা যায় এই ৯০০ কিলোগ্রাম ওজনের বোম। নিমেষের মধ্যে তছনছ করে দিতে পারে লক্ষ্যবস্তকে। বালাকোটের কাছে বিসিয়ান শহরের পশ্চিম সীমানা বরাবর পাঁচটি জঙ্গি ঘাঁটিতে নিপুণ নিশানায় ফেলা হয়েছিল ১০০০ কেজি ওজনের এই স্পাইস-২০০০।
[caption id="attachment_84377" align="aligncenter" width="565"]

স্পাইস-২০০০ গ্লাইড বোম।[/caption]
গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, টার্গেট বাড়িগুলির ছাদের ছিদ্র দিয়ে ঢুকে যায় স্পাইস। সবক্ষেত্রেই যে বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে এমনটা নয়। তবে ভিতরে গিয়ে নিজের কাজ সেরেছে এই বোম। স্পাইসের এই ক্ষমতার জন্যই তাকে ‘অদৃশ্য অস্ত্র’ বলে থাকেন বায়ুসেনারা। নিয়ন্ত্রণ রেখার ও পারে ৩ কিলোমিটার থেকে ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে চক্কর দেয় মিরাজ। টার্গেট করে ছ’টি শিবিরকে। গোটা অপারেশন ছিল ১৯ মিনিটের। এতটাই দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছে মিরাজ-২০০০ যে পাকিস্তানের র্যাডারে ধরা পড়েনি কিছুই। অত্যাধুনিক সিন্থেটিক অ্যাপারচার রাডার দিয়ে তোলা ছবির মাধ্যমেই ভারতীয় গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, পাহাড়ের গায়ে পাঁচটি জইশ কাঠামো ধ্বংস করেছে ভারতীয় যুদ্ধবিমান। তবে খারাপ আবহাওয়ার জন্য উপগ্রহ চিত্রও কিছুটা ঝাপসা এসেছে বলে দাবি গোয়েন্দাদের।
যদিও এই উপগ্রহ চিত্র নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়ার সাইবার পলিসি সেন্টার। তাদের তরফে নাথার রাসার জানিয়েছেন, এই চিত্রগুলি স্পষ্ট নয়। সরাসরি দাবি করা তাই অমূলক। পরীক্ষার পরই সিদ্ধান্তে আসা যাবে।
বস্তুত, বালাকোটে ঘটনার সত্যতা আগেই স্বীকার করেছেন ভারতের এয়ার ভাইস মার্শাল আরজিকে কাপুর। তিনি বলেছিলেন, যেখানে আঘাত হানার লক্ষ্য ছিল ঠিক সেখানেই আঘাত করা হয়েছে। জঙ্গি শিবিরগুলির যতটা ক্ষতি করার উদ্দেশ্য ছিল সাফল্যের সঙ্গে ততটাই করা হয়েছে। এ ব্যাপারে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে। তবে এই প্রমাণ সেই উপগ্রহ চিত্র কিনা সেটা স্পষ্ট করেননি তিনি।