দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত সোমবারই রামজন্মভূমি আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী উমা ভারতী বলেছিলেন, তিনি অযোধ্যায় ভূমিপূজন অনুষ্ঠানে যাবেন না। করোনা সংক্রমণ থেকে সতর্ক থাকার জন্যই তিনি ওই সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু ভূমিপূজনের দিন সকালে শোনা গেল, তিনি ওই অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন। পরে তাঁকে দেখাও গিয়েছে অযোধ্যায়।
৬১ বছর বয়সী উমা ভারতী বুধবার সকালে হিন্দিতে একটি টুইট করেন। তাতে লেখা হয়েছে, "মর্যাদা পুরুষোত্তম রামকে আমি সম্মান করি। রাম জন্মভূমি আন্দোলনের এক প্রবীণ নেতা আমাকে ভূমিপূজনে উপস্থিত থাকতে বলেছেন। তাই আমি অযোধ্যায় যাব।" এর পরেই তিনি অযোধ্যায় ভূমিপূজনস্থলে পৌঁছান।
একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ হাত জোড় করে উমা ভারতীকে স্বাগত জানাচ্ছেন। দু'জনেই মাস্ক পরে আছেন। পরে উমা ভারতী সংবাদ সংস্থাকে বলেন, "অযোধ্যা সকলকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। এখন আমাদের দেশ মাথা উঁচু করে বিশ্বের দরবারে বলতে পারবে, এখানে কারও প্রতি বৈষম্য করা হয় না।"
বুধবার ভূমিপূজনে অযোধ্যায় উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর সঙ্গে থাকবেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত।
প্রধানমন্ত্রীর বিমান লখনউয়ের মাটি ছোঁবে ১০টা বেজে ৩৫ মিনিটে। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে ১১টা ৩০ মিনিটে অযোধ্যায় পৌঁছবেন মোদী। হনুমানগড়িতে পুজো দিয়ে রামমন্দির প্রাঙ্গনে পৌঁছবেন ঠিক ১২টায়। তারপর সাড়ে ১২টায় শুরু হবে ভূমিপূজন।
শুক্লপক্ষের অভিজিৎ তিথিতে প্রথম ইট গাঁথবেন প্রধানমন্ত্রী। ৩০ কেজি ওজনের রুপোর ইট গাঁথার জন্য শাস্ত্রমতে ৩২ সেকেন্ড সময় পাবেন প্রধানমন্ত্রী। কারণ বেলা ১২টা বেজে ৪৪ মিনিট ৮ সেকেন্ড থেকে ১২টা বেজে ৪৪ মিনিট ৪০ সেকেন্ড– এই ৩২ সেকেন্ডই ‘চক্র সুদর্শন মুহূর্ত।’ ওই সময়ের মধ্যেই প্রথম ইট গেঁথে ফেলতে হবে প্রধানমন্ত্রীকে। তার আগে অবশ্য গঙ্গাজলে ইট শুদ্ধ করে, চন্দন মাখিয়ে রাখার কাজ সেরে রাখবেন রামমন্দির তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের পুরোহিতরা।
রামমন্দির ট্রাস্টের তরফে চেয়ারম্যান চম্পত রাই বলেছেন, এখানে শুধু হিন্দু সংগঠনের নেতাদেরই আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান, শিখ ধর্মীর নেতা-সহ অন্যান্য অনেক ধর্মের নেতাদেরও ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
মোট পাঁচটি মঞ্চ হয়েছে মন্দির প্রাঙ্গনে। মূল মঞ্চে থাকবেন মোদী, যোগী, ভগবতরা। তাঁদের সঙ্গে ওই মঞ্চে বসবেন রামমন্দির তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের চেয়ারম্যানও। বাকি মঞ্চগুলিতে সামাজিক বা শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে বসবেন বাকি অতিথিরা।