গ্রামের এক ব্যবসায়ী এই মহিলাদের নিয়ে বালাপোশ তৈরি করান। প্রত্যেকটি বালাপোশ বানানোর জন্য একশো টাকা করে মজুরি মেলে। গ্রামের মহিলারা জানালেন, সংসারের কাজ সামলে দিনে অন্তত একটি বালাপোশ তৈরি করে ফেলতে পারেন তাঁরা।

শেষ আপডেট: 14 November 2025 17:20
শহর জীবনে তেমন নাগাল মেলেনি এখনও। তবে গ্রাম জীবনে শীতের নরম ছোঁয়া টের পাওয়া যাচ্ছে রাত আর ভোরের দিকে। আর নভেম্বরের শুরুতে এই শীতল অনুভূতি স্বাধীনতার স্বাদ বয়ে আনছে উলুবেড়িয়া মহেশপুর কলোনিতে। ঘরে ঘরে মহিলাদের ব্য়স্ততা বেড়েছে। শুরু হয়ে গেছে বালাপোশ তৈরির কাজ।
শীত এলেই হাসি ফোটে এই গ্রামের মহিলাদের মুখে। কারণ শীতের কয়েকটা মাসই যে তাদের রোজগারের সময়। বছরের অন্য সময় সংসারের কাজে ব্যস্ত থাকা এই মহিলারা ঠান্ডা পড়লেই হাতে তুলে নেন সুচ-সুতো। প্রশস্থ উঠোনে পিঠে শীতের রোদ নিয়ে তাঁরা বসে যান বালাপোশ সেলাইয়ে। আগে শীতের রাতে মোটা লেপে উষ্ণতা খুঁজতেন মানুষ, সময়ের সঙ্গে তার জায়গা নিয়েছে তুলো ও পুরনো শাড়ি দিয়ে তৈরি হালকা বালাপোষ। খরচ কম, কিন্তু উষ্ণতায় কোনও কমতি নেই। তাই এর চাহিদা এখন সর্বত্র।
গ্রামের এক ব্যবসায়ী এই মহিলাদের নিয়ে বালাপোশ তৈরি করান। প্রত্যেকটি বালাপোশ বানানোর জন্য একশো টাকা করে মজুরি মেলে। গ্রামের মহিলারা জানালেন, সংসারের কাজ সামলে দিনে অন্তত একটি বালাপোশ তৈরি করে ফেলতে পারেন তাঁরা। এই রোজগারটুকুর জন্য বছরভর চেয়ে থাকেন। গ্রামের বাসিন্দা সুধা মজুমদার বলেন, “সবসময় স্বামীর ওপর নির্ভর করে থাকা যায় না। এই কাজের টাকায় ছেলেমেয়ের খরচ চালাতে পারি, একটু নিজের হাতে রোজগারের সুখ পাই। এই কটা মাস একটু স্বাধীন মনে হয় নিজেকে। ভাল লাগে খুব।”
অন্য বছর পুজো কাটতেই উঠোনে আর ছাদে সুচ-সুতো নিয়ে বসে পড়তেন মহেশপুর কলোনি মহিলারা। এ বছর শীত কিছুটা দেরিতে আসায় কাজও দেরিতে শুরু হয়েছে। তবে কাজ শুরু হতেই খুশির মেজাজে গ্রামের মহিলারা। রীনা রানা আর সুখি রানার কথায়, “গল্প করতে করতে হাতের কাজ শেষ হয়ে যায়, তাই শীত এলে আমাদের মনও ভালো থাকে। রোজগার তো হয়ই। এই ক'মাস অন্তত বরের কাছে হাত খরচের জন্য হাত পাততে হয় না। একটু স্বাধীনতা পাই আমরা।”
শীতের ক’টা মাস এভাবেই চলে কাজ। বছরের বাকি সময় এই গ্রামের কিছু মহিলা বিড়ি বাঁধার কাজ করেন। তবে সবাই নন। তাই শীত এলেই নতুন প্রাণ আসে জীবনে— তুলোর গন্ধ, কাপড়ের ছোঁয়ায় যেন প্রাণ পান তাঁরা। এখনও কনকনে ঠান্ডা নাম নি, তবুও ভোরে যখন হালকা কুয়াশায় ঢাকে মাঠ, ঘুম থেকে উঠে পড়েন ঘরের মহিলারা। সংসারের প্রয়োজনীয় কাজ তাড়াতাড়ি সেরে বালাপোশ তৈরিতে বসে যান। মহেশপুরের মহিলাদের শীতের গল্প শুরু হয়।