
শেষ আপডেট: 25 May 2020 18:30
কোভিড ভ্যাকসিন তৈরির জন্য নানা রকম পন্থা নিচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন বায়োটেকনোলজি ও সায়েন্স রিসার্চ ফার্ম। কোথাও ভাইরাসের জেনেটিক কোডকে কাজে লাগিয়ে ভ্যাকসিন ডিজাইন করা হচ্ছে, আবার কোথাও কোভিড সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়েছেন এমন ব্যক্তির রক্তে তৈরি অ্যান্টিবডি স্ক্রিনিং করে তার থেকে প্রতিষেধক তৈরি করার চেষ্টা চলছে। মেসেঞ্জার আরএনএ বা বার্তাবহ আরএনএ-র কাজই হল কোষে কোষে বার্তা পৌঁছে দেওয়া। কোন কোষে প্রোটিন তৈরি হচ্ছে, কোথায় কী রাসায়নিক বদল হচ্ছে সবকিছুর জিনগত তথ্য বা ‘জেনেটিক কোড’ জোগাড় করে সেটা শরীরের প্রয়োজনীয় জায়গায় পৌঁছে দেওয়া। এই মেসেঞ্জার আরএনএ সিকুয়েন্সকে কাজে লাগিয়ে ভ্যাকসিন বানিয়েছে মোডার্না।
https://twitter.com/Novavax/status/1265028606264324096
ডক্টর গ্রেগরি বলছেন, নোভাভ্যাক্সের ভ্যাকসিনও ডিজাইন করা হয়েছে এমআরএনএ সিকুয়েন্সকে কাজে লাগিয়েই। তবে তার পদ্ধতি মোডার্নার থেকে আলাদা। NVX-CoV2373 নামের এই ভ্যাকসিন ক্যানডিডেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া হবে আরও কিছু উপাদান যা শরীরে শক্তিশালী অ্যান্টিবডি তৈরি করবে। এক্ষেত্রেও ভ্যাকসিন তৈরির জন্য করোনার স্পাইক গ্লাইকোপ্রোটিনকে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে ভাইরাল প্রোটিনকে আগে নিষ্ক্রিয় করে নেওয়া হয়েছে যাতে মানুষের শরীরে তার ক্ষতিকর প্রভাব না পড়ে। প্রতিলিপি তৈরি হলেও ভাইরাসের সংখ্যায় বাড়ার ক্ষমতা একটা নির্দিষ্ট গণ্ডিতেই থাকে। গবেষক বলছেন, এই ভাইরাল প্রোটিন শরীরে ঢুকলেই তার প্রতিরোধে অ্যান্টিবডি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। আর এই ভ্যাকসিনে এমন উপাদান থাকবে যাতে ভাইরাসের মোকাবিলায় দ্রুত ও জোরালো অ্যান্টিবডি তৈরি হয় শরীরে।
গবেষক গ্রেগরির কথায়, প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালের পরে দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল হবে জুলাইতে। ততদিনে ভ্যাকসিন তার কাজ শুরু করে দেবে। কী পরিমাণে অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে সেটা খতিয়ে দেখে ভ্যাকসিনের ডোজের মাত্রা ঠিক করা হবে।
মোডার্না বায়োটেক, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির মতোই মানুষের শরীরে ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করছে আমেরিকার ফার্মাসিউটিক্যালস জায়ান্ট ফাইজার। জার্মান বায়োটেকনোলজি ফার্ম বায়োএনটেক এসই-র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই ভ্যাকসিনের ডিজাইন ও ট্রায়াল করছে ফাইজার। ম্যানহাটানের নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি গ্রসম্যান স্কুল অব মেডিসিন ও বাল্টিমোরের ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড স্কুল অব মেডিসিনে এই ভ্যাকসিনের গবেষণা ও ট্রায়াল চলছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ৩৮০ জনকে এই ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। ফাইজারের ভ্যাকসিন রিসার্চ বিভাগের প্রধান ক্যাথরিন জ্যানসেন বলেছেন, BNT162 নামে এই ভ্যাকসিন ক্যানডিডেটের ডিজাইনে আরএনএ টেকনোলজির ব্যবহার করা হয়েছে। এই আরএনএ ভ্যাকসিন দেহকোষকে ভাইরাল প্রোটিন তৈরিতে বাধ্য করে যাতে তার প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি শরীরেই তৈরি হয়ে যায়।