দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রশাসনিক তৎপরতা হোক বা স্বেচ্চাসেবী সংগঠনের সচেতনতা শিবির, নাবালিকা বিয়ে রুখতে যে রীতিমতো নাজেহাল হতে হচ্ছে সরকারি কর্তাদের তার আরও একটা উদাহরণ মিলল তামিলনাড়ুর ধর্মপুরীতে। ১৫ বছরের কিশোরীর বিয়ে আটকাতে গিয়ে বেধড়ক মার খেতে হলো চাইল্ড লাইনের দুই মহিলা আধিকারিককে।
ঘটনাটি পেন্নাগারামের পাভালানথুর গ্রামের। পুলিশ জানিয়েছে, বছর পনেরোর এক কিশোরীকে জোর করে তারই এক আত্মীয়ের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে এমন খবর পায় চাইল্ড লাইন। গত সপ্তাহে শিশু সুরক্ষা কমিশনের কয়েকজন আধিকারিক ওই গ্রামে গিয়ে মেয়েটির বাবা, মায়ের সঙ্গে কথাও হলে। তাঁদের দিয়ে মুচলেকা লিখিয়ে নেওয়া হয় যে কোনও ভাবেই ১৮ বছরের আগে নিজের মেয়ের বিয়ে দিতে পারবেন না তাঁরা। অভিযোগ, সেই সময় রাজি হলেও, পরে কথার খেলাপ করেন তাঁরা।
গত শুক্রবার জেলার হেল্পলাইন নম্বর ১০৭৭ মারফৎ চাইল্ড লাইনের কাছে খবর আসে ওই মেয়েটিকে জোরজবরস্তি বিয়ে দেওয়া হচ্ছে গ্রামে। খবর পেয়েই এক পুলিশ কর্মীকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন চাইল্ড লাইনের দুই মহিলা আধিকারিক বৈথেশ্বরী এবং সরোজা। প্রথমে মেয়েটির পরিবারের সঙ্গে বচসা হয় তাঁদের, পরে তাঁদের বুঝিয়ে মেয়েটিকে নিজেদের সঙ্গে নিয়ে আসার চেষ্টা করেন তাঁরা। গ্রাম থেকে বার হতেই তাঁদের ঘিরে ঘরে উত্তেজিত জনতা। মহিলাদের হেনস্থা তো বটেই, এমনকি তাঁদের মারধর করে মেয়েটিকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ।
পুলিশ জানিয়েছে, অন্তত ২০ জনকে চিহ্নিত করা গেছে যারা সে দিন ওই মহিলাদের মারধর করে মেয়েটিকে তুলে নিয়ে যায়। জখম অবস্থায় তাঁরা কোনরকমে চাইল্ড লাইন প্রজেক্ট ডিরেক্টর শিন টমাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে গ্রামে পৌঁছে তাঁদের উদ্ধার করে পুলিশ।
শিন টমাসের কথায়, “মেয়েটির বাবা শিবলিঙ্গম দিনমজুর। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা চলছে। মেয়েটির বিয়ে রোখা গেলেও গ্রামের পরিস্থিতি খুবই উত্তপ্ত। সেখানে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে গ্রামবাসীরা।” পুলিশ সুপার রাজন জানিয়েছেন, গ্রামে পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে। মহিলা আধিকারিকদের মারধরের ঘটনায় অভিযুক্তদের আটক করা হবে। মহিলাদের হেনস্থা, নাবালিকা বিয়ে, অপহরণ-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।
নাবালিকা বিয়ে রুখতে শুধু পুলিশ-প্রশাসন নয়, বরং এগিয়ে এসেছে নানা স্কুল-কলেজও। পথনাট্য থেকে সচেতনা শিবির করে প্রচার চালানো হচ্ছে প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে। অভিভাবকদের বুঝিয়ে রুখে দাঁড়িয়েছে নাবালিকারাও। তবে স্রাবিক স্তরে সচেতনতা কবে হবে, সেটাই এখন দেখার।