দ্য ওয়াল ব্যুরো : শুক্রবার মুম্বই থেকে নিজেদের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন সাত পরিযায়ী শ্রমিক। তাঁদের বাড়ি রাজস্থানে। লকডাউনের মধ্যে মুম্বই-আমেদাবাদ হাইওয়ে ধরে হেঁটে যাচ্ছিলেন তাঁরা। কিন্তু গভীর রাতে গুজরাত-মহারাষ্ট্র সীমান্তে পুলিশ তাঁদের আটকায়। তাঁদের ফিরে যেতে বাধ্য করে। তাঁরা তখন ফের ভাসাই অঞ্চলে যে বস্তিতে তাঁরা থাকেন সেখানে ফিরছিলেন। রাত তিনটে নাগাদ একটা ট্রাক তাঁদের ধাক্কা মারে। চারজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত হন অপর তিনজন।
মাণ্ডবী পুলিশ চেক পোস্টের অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ ইনস্পেকটর রণজিৎসিং পরদেশি জানান, তাঁরা ঘাতক ট্রাকটি আটক করেছেন। কিন্তু চালক পলাতক। মৃতদের দু'জনের পরিচয় জানা গিয়েছে। তাঁদের নাম কল্পেশ যোশী (৩২) ও মায়াঙ্ক ভট্ট (৩৪)। যে তিনজন আহত হয়েছেন, তাঁদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
গত দু'দিন ধরেই দেখা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন হাইওয়েতে পরিযায়ী শ্রমিকদের ঢল নেমেছে। জামাকাপড়ের বোঁচকা নিয়ে সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন শ্রমিকরা, বাড়ি ফিরবেন বলে। গতকাল রাতেই কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢড়া একটি ভিডিও বার্তায় দাবি জানান, সরকার পরিযায়ী শ্রমিকদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখুক। নাহলে সংক্রমণ আরও ভয়াবহ জায়গায় যাবে।
ওই ভিডিও বার্তায় প্রিয়ঙ্কা আরও বলেন, উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেসের তরফে একটি হাইওয়ে টাস্ক ফোর্স গঠন করে চেষ্টায় করা হচ্ছে। কিন্তু সার্বিক সরকারি উদ্যোগ ছাড়া এটা সম্ভব নয়। রাহুল গান্ধীও একই দাবি করেন। তারপরই এদিন সমস্ত রাজ্যগুলিকে অ্যাডভাইজারি পাঠাল গৃহমন্ত্রীর দফতর।
গত দু'দিনে একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। কোথাও দুধের খালি ট্যাঙ্কারে বাড়ি ফিরতে গিয়ে আটক করা হয়েছে কয়েকশো শ্রমিককে। কোথাও আবার দেখা গিয়েছে লকডাউনের মধ্যে ঘরে ফিরতে চেয়ে ১২০০ কিলোমিটার ভ্যান চালিয়ে আসছেন শ্রমিকরা। পরিস্থিতি যখন ক্রমশ উদ্বেগজনক জায়গায় যাচ্ছিল তখনই পদক্ষেপ করার বার্তা দিল কেন্দ্র।
বাংলাতেও ছবিটা ভিন্ন নয়। বিহার, উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা শ্রমিকরা বিভিন্ন উপায়ে বাড়ি ফিরতে চেয়ে রাজ্য ছাড়ছেন। দু'দিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের ১৮টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে বলেছিলেন, সেই সেই রাজ্যে আটকে থাকা বাংলার শ্রমিকরা যাতে আশ্রয়, খাবার এবং ওষুধ পান তা যেন নিশ্চিত করা হয়। গতকাল নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বলেছিলেন, ১৮ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকেই তিনি ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন। সেইসঙ্গে তিনি এও বলেন, বাংলায় যেসব ভিনরাজ্যের শ্রমিক আছেন, তাঁদের প্রতি সমস্ত কর্তব্য পালন করছে রাজ্য সরকার।
বাস্তব হল, একে আর্থিক সঙ্কট তার উপর দূরে থাকা পরিবারের প্রতি দুশ্চিন্তা থেকেই অন্য রাজ্যে কাজে যাওয়া শ্রমিকরা ভাইরাস সতর্কতা অমান্য করেই ঘরমুখী হচ্ছেন। আর সেটাকেই নিয়ন্ত্রণ করতে রাজ্যগুলিকে বার্তা দিল কেন্দ্র।