কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রর মধ্যে বহুদিন ধরেই তিক্ত সম্পর্ক। দুজনেই একে অপরের বিরুদ্ধে অভদ্র ভাষা ব্যবহার ও শিষ্টাচার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন, যা দলীয় নেতৃত্বের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও মহুয়া মৈত্র
শেষ আপডেট: 10 August 2025 14:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ফের প্রকাশ্যে। আবারও আলোচনায় তৃণমূলের দুই সাংসদ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) এবং মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। শনিবার শ্রীরামপুরের সাংসদ মহুয়াকে কটাক্ষ করে বলেন, তিনি “নিচু মানের” এবং “সময়ের অপচয়”। এই মন্তব্যে দুই নেতার চলমান বিরোধ আরও তীব্র হবে বলেই রাজনৈতিক মহলের অনুমান।
চারবারের সাংসদ ক্যাল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি লোকসভায় তৃণমূলের চিফ হুইপ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। দলের ভেতরের অশান্তির জেরেই এই পদক্ষেপ বলে শোনা যায়। রোববার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ওই মহিলা (মহুয়া মৈত্র) আমার আলোচনার বিষয় নন। উনি খুব নিচু মানের। ওঁকে নিয়ে কথা বলার মানে নেই। ওঁর জন্য আমি বহু মানুষের কাছে খারাপ হয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “এটা আমার সময় ও শক্তির অপচয় ছিল। ওঁর দিকে মনোযোগ দেওয়া আমার ভুল। এখন আর কোনও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই।”
কল্যাণ জানান, এক জুনিয়র আইনজীবী ভাইয়ের মেসেজে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি বুঝেছেন, মহুয়া মৈত্র আর তাঁর জন্য ‘বিষয়’ নন। “এখন আমার অনেক কাজ বাকি,” মন্তব্য শ্রীরামপুরের সাংসদের। যদিও এ ব্যাপারে মহুয়া মৈত্রের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রর মধ্যে বহুদিন ধরেই তিক্ত সম্পর্ক। দুজনেই একে অপরের বিরুদ্ধে অভদ্র ভাষা ব্যবহার ও শিষ্টাচার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন, যা দলীয় নেতৃত্বের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে।
তবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে করা মন্তব্যের জন্য আক্ষেপও প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “দিদির বিরুদ্ধেও কথা বলেছি, যা না বলাই ভাল ছিল।” রাখি বন্ধনের দিনে দিদিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, “দিদি আমাকে আশীর্বাদ করেছেন— একবার নয়, তিনবার।”
গত ৪ জুলাই কল্যাণ লোকসভায় তৃণমূলের চিফ হুইপ পদ ছাড়েন। অভিযোগ করেন, সংসদে কিছু সাংসদ কার্যত অনুপস্থিত থেকেও সমন্বয়ের অভাবের দায় তাঁর ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে। একইসঙ্গে সহকর্মী সাংসদের (ইঙ্গিত মহুয়ার দিকে) কাছ থেকে অপমানের শিকার হওয়ার পরও দলের নীরবতায় তিনি আঘাত পেয়েছেন।
দলীয় সূত্রে খবর, এর আগেও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রাক্তন ক্রিকেটার ও তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদের দ্বন্দ্ব হয়েছিল। মহুয়া মৈত্রর সঙ্গে তাঁর শেষ প্রকাশ্য সংঘাত হয়েছিল, যখন স্কুলে পুলিশ মোতায়েন প্রসঙ্গে প্রশ্নে তিনি বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন।