দলীয় স্তরে নতুন ও পুরোনো নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে বিধানসভা ভোটের আগে সংগঠনকে আরও মজবুত করাই যে উদ্দেশ্য, তা স্পষ্ট।

শেষ আপডেট: 25 July 2025 08:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলছিল বহুদিনের জল্পনা। এবার সেই আলোচনা কার্যত বাস্তব রূপ নিতে চলেছে বলেই ইঙ্গিত মিলছে। দলের একাংশের মতে, চলতি জুলাই মাসের মধ্যেই টাউন ও ব্লক স্তরে ছাত্র, যুব, মহিলা, আইএনটিটিইউসি-সহ শাখা সংগঠনের নতুন সভাপতিদের নাম ঘোষণা করা হতে পারে।
তৃণমূল সূত্রের খবর, সাংগঠনিক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে একাধিক স্তরে প্রস্তুতি প্রায় সম্পূর্ণ। আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দল চাইছে নতুন করে ঘর গোছাতে। সেই কারণেই পুরনো নেতৃত্বের সঙ্গে সম্ভাবনাময় নতুন মুখদের সামঞ্জস্য রেখে গঠিত হতে পারে নতুন কমিটি।
২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকেই কার্যত ভোটের প্রস্তুতির সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার বিরুদ্ধে 'অপমানের রাজনীতি' করছে বিজেপি— এই বার্তা তুলে ধরে রাজ্যজুড়ে কর্মসূচির ঘোষণা হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই দলের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও মজবুত করার চেষ্টায় নেমেছে শাসক দল।
বিশেষ করে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল ও দমদম সাংগঠনিক জেলায় বড়সড় রদবদলের সম্ভাবনা রয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্ব মনে করছে, যাঁদের সংগঠনিক দক্ষতা রয়েছে ও জনভিত্তি মজবুত, এমন নতুন মুখদের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। অনেক জায়গায় পুরনো সভাপতিদের সরিয়ে আনতে পারে রদবদল।
দলীয় সূত্র জানাচ্ছে, জেলাভিত্তিক সমীক্ষা রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকা ধরে ধরে সংগঠক ও নেতাদের কাজের খতিয়ান সংগ্রহ করেছে সমীক্ষক সংস্থা। কার কোথায় গ্রহণযোগ্যতা বেশি, কোথায় ক্ষয় হয়েছে— তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উত্তর ২৪ পরগনার এক জেলা নেতা বলেন, "তৃণমূল একটা পরিবার। দল যেটা ঠিক করবে, সেটাই হবে। পুরোনো ও নতুন সবাইকে নিয়েই আমাদের বিজেপি ও সিপিএম-এর বিরুদ্ধে লড়তে হবে।"
শ্যামনগর-আতপুর টাউন কমিটিতে সভাপতি পদে বসতে পারেন জেলা পরিষদের এক প্রভাবশালী নেতা বা জগদ্দলের বিধায়ক ঘনিষ্ঠ কোনও কাউন্সিলর। ভাটপাড়া–২ এই অঞ্চলে প্রাক্তন পুরপ্রশাসনের শীর্ষপদে থাকা এক নেতাকে সভাপতি করা হতে পারে। নৈহাটির বর্তমান সভাপতি সনৎ দে এখন বিধায়ক হওয়ায়, তাঁকে সংগঠনের পদ থেকে সরানোর সম্ভাবনা রয়েছে। নোয়াপাড়া, নিউ ব্যারাকপুর–সহ আরও কিছু এলাকাতেও রদবদল হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
অতএব, তৃণমূলের সাংগঠনিক রদবদল এখন আর কেবল চর্চার বিষয় নয়— চলতি মাসেই তার বাস্তব রূপ দেখতে পারে রাজ্য। দলীয় স্তরে নতুন ও পুরোনো নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে বিধানসভা ভোটের আগে সংগঠনকে আরও মজবুত করাই যে উদ্দেশ্য, তা স্পষ্ট।