দলের কর্মীদের একাংশের বিক্ষোভের মুখে পড়ে তাঁকে কার্যত ফিরে যেতে হল। ‘চোর-চোর’ স্লোগানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পশ্চিম মেদিনীপুরের (West Medinipur) নারায়ণগড়ে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 24 January 2026 16:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ১৫ বছর ধরে কী কী কাজ হয়েছে, তৃণমূল সরকারের (TMC Govt) উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরতে নিজের বিধানসভা এলাকাতেই কর্মসূচি করতে গিয়ে বিপাকে পড়লেন তৃণমূল বিধায়ক (TMC MLA)। দলের কর্মীদের একাংশের বিক্ষোভের মুখে পড়ে তাঁকে কার্যত ফিরে যেতে হল। ‘চোর-চোর’ স্লোগানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পশ্চিম মেদিনীপুরের (West Medinipur) নারায়ণগড়ে।
শনিবার সকালে ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ (Unnoyoner Panchali) কর্মসূচি নিয়ে নারায়ণগড় ব্লকের ৬ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের কসবা কমিউনিটি হলে হাজির হন তৃণমূল বিধায়ক সূর্যকান্ত অট্ট। কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগেই আচমকা একদল যুবক তাঁকে ঘিরে ধরে স্লোগান তুলতে শুরু করে। বিক্ষোভকারীদের ভিড়েই দেখা যায় তৃণমূলের পতাকা। পরিস্থিতি সামলাতে না পেরে দৃশ্যত অস্বস্তিতে পড়েন বিধায়ক। শেষ পর্যন্ত কোনও বক্তব্য না রেখেই গাড়িতে উঠে এলাকা ছাড়েন তিনি।
বিক্ষোভের নেতৃত্বে ছিলেন তৃণমূলেরই অঞ্চল যুব সভাপতি শেখ বাপি। তাঁর অভিযোগ, বিধায়ক দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ ও কর্মীদের অবহেলা করেছেন। এমনকি ভোটারদের অপমানজনক মন্তব্যও করেছেন বলে দাবি। শেখ বাপির কথায়, কসবা এলাকা থেকে তৃণমূল বরাবর ভালো লিড পেলেও বিধায়ক নাকি প্রকাশ্যে বলেছেন, এলাকা ‘গোয়ালঘর’ আর ভোটাররা ‘গরু’। যুব নেতার প্রশ্ন, “যাঁদের গরু বলে অপমান করা হয়েছে, আজ হঠাৎ তাঁদের কাছেই বা কেন আসতে হল?”
বিক্ষোভকারীদের আরও অভিযোগ, ২০২১ সালে বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর সূর্যকান্ত অট্ট কার্যত এলাকামুখো হননি। কোনও দলীয় কর্মসূচিতেও তাঁকে দেখা যায়নি। এখন ভোট এগিয়ে আসতেই ফের এলাকায় আসা শুরু করেছেন—এমনটাই দাবি তাঁদের। বিক্ষোভকারীরা স্পষ্ট জানান, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সূর্যকান্তকে যেন আর প্রার্থী না করা হয়। দাবি মানা না হলে ভবিষ্যতে আরও জোরালো প্রতিবাদ হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
যদিও অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বিধায়ক নিজে। তাঁর বক্তব্য, তিনি নিয়মিত দলীয় কর্মসূচিতেই সেখানে গিয়েছিলেন। সেখানে ১০-১৫ জন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে চিৎকার-চেঁচামেচি করেছেন। সূর্যকান্তের দাবি, ওই বিক্ষোভের সঙ্গে দলের কেউ যুক্ত নন। তাঁর কথায়, “আমাকে অপদস্থ করার চেষ্টা করা হয়েছে। যারা অবৈধ উপায়ে টাকা রোজগার করতে পারছে না, তারাই এই ধরনের স্লোগান তুলছে।”