চাঁপদানি বিধানসভার ১৬১ নম্বর বুথের ভোটার স্বাতী খোন্দকার। শনিবার শুনানিতে আসেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন খুড়শ্বশুর ৭২ বছরের ড: সৈকত আলী।

শেষ আপডেট: 24 January 2026 19:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: বাবা দুর্গাচরণ দত্ত বৈদ্যবাটি পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন। স্বামী আকবর আলি খোন্দকার বিধায়ক এবং সাংসদ হয়েছিলেন। তিনি নিজে চণ্ডীতলা থেকে তিনবার নির্বাচিত হয়ে বিধায়ক হয়েছেন। সেই বিধায়ক স্বাতী খোন্দকারকে এসআইআর শুনানিতে হাজিরা দিতে হল।
শ্রীরামপুরের প্রাক্তন সাংসদ আকবর আলি খোন্দকারের স্ত্রী স্বাতী। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম থাকলেও পদবি ছিল দত্ত। বিয়ের পর খোন্দকার পদবি হওয়ায় শুনানিতে ডাক পড়েছে বলে তিনি জানান।
চাঁপদানি বিধানসভার ১৬১ নম্বর বুথের ভোটার স্বাতী খোন্দকার। শনিবার শুনানিতে আসেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন খুড়শ্বশুর ৭২ বছরের ড: সৈকত আলী। পাশে ছিলেন ভাইও। বিধায়ক জানান, তাঁর বাবার সমস্ত তথ্য নিয়ে এদিন তাঁর পাশে দাঁড়াতে এসেছিলেন তাঁর ভাই।
স্বাতী বলেন, "আমি বাবার মেয়ে কিনা তা প্রমাণ দিতে আসতে হয়েছে আমাকে। এটা ইচ্ছে করে সংখ্যালঘু মানুষকে হয়রানি করা। সংখ্যালঘু মানুষদেরই বারবার শুনানির নামে হেনস্থা করা হচ্ছে। তবে নির্বাচন কমিশন যখন ডেকেছে, তখন আসতেই হবে। তাই এসেছি। কিন্তু যে ভাবে সাধারণ মানুষ হেনস্থা হচ্ছেন তাকে ধিক্কার জানাচ্ছি।"
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন যুব কংগ্রেস নেত্রী ছিলেন, তখন দলের রাজ্য সহ-সভাপতি ছিলেন আকবর আলি খোন্দকার। মমতা রাজ্য যুব কংগ্রেসের সভাপতি হওয়ার আকবরকে হুগলি জেলা যুব কংগ্রেস সভাপতি পদে বসান। ১৯৯৬ সালে চণ্ডীতলা থেকে কংগ্রেসের টিকিটে বিধায়ক হয়েছিলেন আকবর। তবে ১ বছর ৮ মাসের মাথায় বিধায়ক পদ ছেড়ে তিনি নেত্রীর সঙ্গে তৃণমূলে চলে আসেন। ১৯৯৮ সালে তৃণমূলের টিকিটে শ্রীরামপুর আসন থেকে জিতে সাংসদ হন। বাজপেয়ী সরকারের পতনের পরে ১৯৯৯ সালেও ফের এই কেন্দ্র থেকে জেতেন আকবর। ২০০০ সালে তাঁকে দলের জেলা সভাপতি করা হয়। ২০০৫ সালের ২৪ এপ্রিল মৃত্যুর দিন পর্যন্ত আকবরই জেলায় দলের সর্বোচ্চ পদে ছিলেন। তাঁর স্ত্রীকে নির্বাচন কমিশন শুনানির জন্য ডেকে পাঠানোয় জেলায় শোরগোল পড়েছে।