“যারা বিজেপির হয়ে প্রচারে যাবে, তাদের ধরে রেখে প্রশ্ন করতে হবে— নরেন্দ্র মোদীর আমলে কেন বাংলার মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছে? কেন বাংলার মানুষ নিজের ভাষায় কথা বলতে পারবে না? কেন খাদ্যাভ্যাস নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে?”

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 31 January 2026 09:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই হুমকি–পাল্টা হুমকিতে চড়ছে বঙ্গ রাজনীতির পারদ। সেই উত্তাপের নতুন কেন্দ্র এ বার পূর্ব বর্ধমান (Burdwan)। বিজেপির প্রচারে গেলে কর্মীদের ‘বেঁধে রেখে প্রশ্ন করার’ নিদান দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক (Trinamool leader orders, tie up BJP leaders when campaigning)।
শুক্রবার বিকেলে বর্ধমান শহরের বড়নীলপুর মোড়ে এক জনসভা থেকে এই বার্তা দেন বর্ধমান দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাস। মঞ্চ থেকে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে তাঁর বক্তব্য, “যারা বিজেপির হয়ে প্রচারে যাবে, তাদের ধরে রেখে প্রশ্ন করতে হবে— নরেন্দ্র মোদীর আমলে কেন বাংলার মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছে? কেন বাংলার মানুষ নিজের ভাষায় কথা বলতে পারবে না? কেন খাদ্যাভ্যাস নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে?”
বিধায়ক আরও বলেন, “আমাদের বাড়িতে বসবে। আগে জবাব দেবে, তার পর যাবে। তার পর আবার ভোট চাইতে আসবে।” হুঁশিয়ারির সুরে তিনি যোগ করেন, “চাইলে আমরা কী না করতে পারি! পাঁচ মিনিটে বিজেপির মিটিং বন্ধ করে দিতে পারি।”
সভা থেকেই রাজনৈতিক সমীকরণ টেনে খোকন দাস দাবি করেন, গোটা বাংলা থেকে বিজেপিকে ৩০টির বেশি আসন পেতে দেওয়া হবে না। তাঁর বক্তব্য, “বিজেপির এমন কোনও বিধায়ক নেই যিনি নিশ্চিতভাবে বলতে পারেন যে তিনি নিজের কেন্দ্র থেকে জিতবেন।” ভোট ঘোষণার পর বিজেপির বিধায়কেরা দলে দলে তৃণমূলে যোগ দেবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন করে বিতর্ক। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্রের অভিযোগ, “বাংলায় হিংসার রাজনীতির সূচনা করেছিল সিপিএম। আর এখন তা লালন করছে তৃণমূল। প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, অথচ পুলিশ প্রশাসন নীরব দর্শক। তারা কার্যত শাসকদলের দলদাসে পরিণত হয়েছে।” তাঁর দাবি, ভোটের মুখে আতঙ্ক তৈরি করতেই বিজেপিকে এ ভাবে দমিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে।
তবে তৃণমূলের তরফে এই বক্তব্যের ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম বলেন, “‘বেঁধে রাখা’ কথাটিকে আক্ষরিক অর্থে দেখা ঠিক নয়। এর মানে রাজনৈতিক প্রতিরোধ। বিজেপি ঠিক করে দিতে চাইছে কে কী খাবে, কে কী পরবে, কোন ভাষায় কথা বলবে। এই ফরমানের বিরুদ্ধেই মানুষকে সংগঠিত হওয়ার ডাক দেওয়া হয়েছে।”
উল্লেখ্য, গত শনিবার এই বর্ধমান শহরের বড়নীলপুর মোড়েই বিজেপির ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’র সভায় বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন বিজেপি নেতা প্রবাল রায়। তিনি বলেছিলেন, “এক যুগ-সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছি আমরা। যেখানে প্রেস-মিডিয়াকে মেরে ফেলা হচ্ছে, আর পুলিশ টেবিলের তলায় লুকচ্ছে। যেদিন লক্ষ লক্ষ, কোটি কোটি হিন্দু অস্ত্র হাতে নেবে, সেদিন আর টেবিলের তলায় থাকবে না প্রশাসন।” ঠিক সাত দিনের মাথায় সেই বক্তব্যের পাল্টা প্রতিধ্বনিই এ বার শোনা গেল শাসকদলের বিধায়কের কণ্ঠে।