ওই মহিলা আদতে বাংলাদেশের বগুড়া জেলার বাসিন্দা। সেখানকার বিরল হাইস্কুলের উচ্চমাধ্যমিকের ছাত্রী ছিলেন। পরে সীমানা পেরিয়ে এ দেশে ঢুকে হিন্দু পরিচয় নিয়ে স্থানীয় যুবক সুব্রত বিশ্বাসকে বিয়ে করেন। তারপর থেকে বসবাস করছিলেন এখানেই। ২০২৩ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে হাঁসখালি পঞ্চায়েত সমিতির প্রার্থীও হয়েছিলেন। যদিও সেই নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।

শেষ আপডেট: 19 August 2025 15:43
কাজল বসাক, নদিয়াঃ বাংলাদেশি নিয়ে শোরগোলের মধ্যে মঙ্গলবার সকালে সামনে এল নতুন অভিযোগ। ও পার থেকে এসে ধর্ম পাল্টে এ দেশে শুধু থিতু হওয়াই নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীও হয়েছেন এক মহিলা। বিজেপির এই অভিযোগ ঘিরে মঙ্গলবার সকাল থেকে উত্তপ্ত হয়ে উঠল নদিয়ার হাঁসখালি থানার বড় মুড়াগাছা এলাকা। রানাঘাট উত্তর-পূর্ব বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক অসীম কুমার বিশ্বাসের দাবি, বাংলাদেশ থেকে আসা বুলি দফাদার নামে এক মহিলা ভুয়ো পরিচয়ে ভারতের ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন। পরিচিত হয়েছেন লিপিকা বিশ্বাস নামে। তবে এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন লিপিকা। তিনি জানান, তাঁর জমি দখল করে পার্টি অফিস করেছিল বিজেপি। বাধা দেওয়াতেই মিথ্যে অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিজেপি নেতৃত্ব জানান, ওই মহিলা আদতে বাংলাদেশের বগুড়া জেলার বাসিন্দা। সেখানকার বিরল হাইস্কুলের উচ্চমাধ্যমিকের ছাত্রী ছিলেন। পরে সীমানা পেরিয়ে এ দেশে ঢুকে হিন্দু পরিচয় নিয়ে স্থানীয় যুবক সুব্রত বিশ্বাসকে বিয়ে করেন। তারপর থেকে বসবাস করছিলেন এখানেই। ২০২৩ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে হাঁসখালি পঞ্চায়েত সমিতির প্রার্থীও হয়েছিলেন। যদিও সেই নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।
ওই মহিলার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ নিয়ে মঙ্গলবার সকাল সকাল বিজেপি কর্মীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে সামিল হন। রানাঘাট–কৃষ্ণনগর রাজ্য সড়কের হাঁসখালি থানার বগুলা বড় মুড়াগাছা বাসস্ট্যান্ডে টায়ার জ্বালিয়ে দীর্ঘক্ষণ পথ অবরোধ করেন। বিজেপির দাবি, অবিলম্বে লিপিকা বিশ্বাসকে গ্রেফতার করতে হবে এবং তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে হবে। দলীয় নেতৃত্বের হুঁশিয়ারি, দাবি না মানা হলে লাগাতার আন্দোলন চলবে।
যদিও তার বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন লিপিকা বিশ্বাস। তিনি বলেন, "আমার জায়গা জোর করে দখল করে বিজেপি পার্টি অফিস করেছে। এটা মেনে নিইনি। আমি বাধা দিয়েছিলাম। তারপরেই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে চক্রান্ত করে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে। তবে আমি আইনের দ্বারস্থ হব। দেশের আইন বলে দেবে আমি অনুপ্রবেশকারী কিনা। আমার আধার কার্ড,ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড সমস্ত রয়েছে। আমি আইনের লড়াই লড়ব।"
ইতিমধ্যেই লিপিকার বিরুদ্ধে হাঁসখালি থানা-সহ একাধিক সরকারি দফতরে লিখিত অভিযোগ জমা করেছে। সমগ্র ঘটনায় এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়।