
শেষ আপডেট: 18 October 2021 11:49
গত ৯ অক্টোবর থেকে চলছে জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলন। হাসপাতাল থেকে ফিরে যেতে হচ্ছে রোগীদের। হাসপাতালের গায়ে লাগানো রয়েছে পোস্টার, যাতে লেখা রয়েছে, ‘হাসপাতাল চলছে’। কিন্তু সোমবার হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, একেই বহু সিনিয়র ডাক্তার পুজোর ছুটি থেকে ফেরেননি। অনশনে জুনিয়ররা। তাই জেরেই সমস্যায় পড়েছেন রোগীরা।
হাসপাতালের এমার্জেন্সি বিভাগের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন উত্তর ২৪ পরগণার রাকিবুল হোসেন মোল্লা জানালেন। চোখেমুখে উৎকণ্ঠার ছাপ। জানালেন, তাঁর মেয়ে আইসিইউতে ভর্তি। চিকিৎসক কম থাকায় কয়েকদিন ধরেই সমস্যা হচ্ছে। বললেন, 'তাড়াতাড়ি কর্তৃপক্ষের উচিত এই সমস্যা মিটিয়ে নেওয়া। আমরা সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ছি।' তিনি জানালেন, গতকাল এক প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসায় গাফিলতি করা হয়েছে।
ভাঙরের রউফ মোল্লা অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে সকালেই হাসপাতলে নিয়ে এসেছেন। কিন্তু দুপুর পর্যন্ত তাঁর স্ত্রীকে কোনও চিকিৎসক দেখেননি। তিনি বললেন, 'হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে, প্রসবের জন্য এখনও তিনদিন সময় রয়েছে। বাড়ি নিয়ে যান।' তাঁর অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে কোনও লিখিত দেওয়া হচ্ছেনা। এই পরিস্থিতিতে স্ত্রীকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে ভরসা পাচ্ছেন না তিনি। বললেন, 'এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা না বলে বাড়ি ফেরাটা ঝুঁকির।'
সাবেরা বিবি বৃষ্টি থেকে বাঁচতে হাসপাতালের পাশের চাতালে বসে ছিলেন। জানালেন এমার্জেন্সিতে ডাক্তার ছিলনা। রাত থেকে বসেছিলেন। ভোরের দিকে হাসপাতালে ভর্তি করতে পেরেছেন।'
অন্যদিকে আন্দোলনকারী হবু চিকিৎসকরা তাঁদের দাবিতে অনড়। চিকিৎসকদের তরফে চন্দ্রমৌলি ঝাঁ বললেন, 'প্রিন্সিপ্যাল গত তিনমাস ধরে কলেজে ভয়ভীতির পরিস্থিতি তৈরি করেছেন। অগণতান্ত্রিক উপায়ে কলেজ চালিয়েছেন। আমরা তাঁর পদত্যাগ চাই।'
এখনও কোনও রফাসূত্র বেরোয়নি আরজি করের ঘটনায়। অনুপস্থিত পিজিটি-ইন্টার্নদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। যাঁরা অনুপস্থিত তাঁদের নামের পাশে ‘অ্যাবসেন্ট’ লিখে এমএসভিপি’র কাছে ডকেট করতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ, শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'