কেউ আধ ঘণ্টা কেউ এক ঘণ্টা হাঁটছেন। কেউ যাবেন লিলুয়া, কেউ কলকাতা। তাঁরা জানান, হাওড়ার বালির দিকে গিয়ে যদি কোনও যানবাহন পাওয়া যায় সেই উদ্দেশ্যেই জিটি রোড দিয়ে পায়ে হেঁটে চলেছেন তাঁরা।

শেষ আপডেট: 23 September 2025 13:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: সোমবার রাতের প্রবল বর্ষণে জলমগ্ন চুঁচুড়া-সহ হুগলির বিভিন্ন এলাকা। মঙ্গলবার সকাল থেকে দুর্ভোগের মুখে বাসিন্দারা। দুর্গাপুজোর আগে একাধিক মণ্ডপের সামনে তৈরি হয়েছে জলছবি। ফলে উদ্যোক্তাদের মাথায় হাত। শনিবার পঞ্চমী। তার আগে কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবেন বুঝে পাচ্ছেন না তাঁরা।
চুঁচুড়ার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের পীরতলায় দুর্গা মণ্ডপের সামনে থইথই জল। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকার থেকে বরাদ্দ অর্থ এলেও স্থানীয় শাসকদলের প্রতিনিধিরা সমস্যার সমাধানে কোনও উদ্যোগ নিচ্ছেন না। ফলে প্রতিবার বর্ষার সময় একই পরিস্থিতি তৈরি হয়। তারপরেও হুঁশ ফেরে না। জমা জলে এখন ডেঙ্গি আরও বাড়বে বলেও তাঁদের আশঙ্কা। বাসিন্দারা বলেন,‘‘দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে অবিলম্বে স্থায়ী সমাধান করা হোক। বহুবার অভিযোগ জানিয়েও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’’
শারদোৎসবের দিনগুলোতে বৃষ্টির পূর্বাভাস আগেই দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। তবে সোমবার রাতেই যে এমনভাবে মেঘভাঙা বৃষ্টি নামবে, সে আশঙ্কা করেনি কেউ। সকালে উঠে কর্মস্থলের পথে বেড়িয়ে ভোগান্তির মুখে পড়েন মানুষ। হুগলি থেকে হাওড়ামুখী ব্যান্ডেল-বর্ধমান কাটোয়া লোকাল হাওড়ার দিকে যেতে সমস্যায় পরে। রিষড়া-কোন্নগর সহ বিভিন্ন স্টেশনে দাঁড়িয়ে পরে হাওড়ামুখী ট্রেন। হাওড়ায় ট্রেন না ঢুকতে পারায় আপ ট্রেনও ছাড়তে পারেনি। ফলে আপ ও ডাউন দুই দিকের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। অফিস যাত্রীরা অনেকেই ফিরে যেতে বাধ্য হন। একটা দুটো ট্রেন ছাড়লেও তাতে ছিল বাদুড় ঝোলা ভিড়।
ট্রেন চলছে না, রাস্তায় গাড়ির দীর্ঘ লাইন। অগত্যা হেঁটেই কর্মস্থলের দিকে রওনা হন অনেকে। উত্তরপাড়ায় দেখা গেল এমনই ছবি। কেউ আধ ঘণ্টা কেউ এক ঘণ্টা হাঁটছেন। কেউ যাবেন লিলুয়া, কেউ কলকাতা। তাঁরা জানান, হাওড়ার বালির দিকে গিয়ে যদি কোনও যানবাহন পাওয়া যায় সেই উদ্দেশ্যেই জিটি রোড দিয়ে পায়ে হেঁটে চলেছেন তাঁরা। শহর কলকাতা ও শহরতলীতে যে বৃষ্টি হয়েছে সেই রকম বৃষ্টি পুজোর দিনগুলোতে হলে পুজো নিয়েও বাড়তি চিন্তা থাকবে।