রাজ্যজুড়ে কর্মরত প্রায় ৪ হাজার ৬০০ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী এতে অংশ নেবেন। তাঁদের মূল দায়িত্ব হবে শুনানি পর্বে বিভিন্ন অভিযোগ, তথ্য যাচাই এবং নথিপত্র খতিয়ে দেখা।

গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 24 December 2025 11:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে শুরু হতে চলেছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্ব- শুনানি ও তথ্য যাচাই। তার আগে বুধবার নজরুল মঞ্চে আয়োজিত হচ্ছে মাইক্রো রোল অবজার্ভারদের (Micro Roll Observers) বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবির। একদিনে দুই দফায় চলবে এই ট্রেনিং। প্রশিক্ষণ চলাকালীন নজরুল মঞ্চেই রয়েছেন সিইও মনোজ আগরওয়াল (CEO Manoj Agrawal)।
রাজ্যজুড়ে কর্মরত প্রায় ৪ হাজার ৬০০ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী এতে অংশ নেবেন। তাঁদের মূল দায়িত্ব হবে শুনানি পর্বে বিভিন্ন অভিযোগ, তথ্য যাচাই এবং নথিপত্র খতিয়ে দেখা। তাই প্রশিক্ষণে বিশেষভাবে বোঝানো হবে, শুনানির নিয়ম কী, কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে নথি পরীক্ষা করতে হবে এবং কীভাবে নিরপেক্ষভাবে রিপোর্ট তৈরি করবেন তাঁরা।
জানা গেছে, আজকের প্রশিক্ষণে উপস্থিত আছেন মুর্শিদাবাদ,মালদহ, জলপাইগুড়ি, দক্ষিণ দিনাজপুর, উত্তর দিনাজপুর, বাঁকুড়া, বীরভূম, নদিয়া, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দক্ষিণ কলকাতা, উত্তর কলকাতা, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমানের দায়িত্বে থাকা মাইক্রো রোল অবজার্ভাররা। প্রথম পর্ব সকাল ১০.৩০ টা থেকে বেলা ১২.৩০টা পর্যন্ত চলবে। দ্বিতীয় পর্ব বেলা ২.৩০টে থেকে বিকেল ৪.৩০টে পর্যন্ত।
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) ছাড়াও প্রশিক্ষণ শিবিরে উপস্থিত রয়েছেন কমিশনের অন্যান্য সিনিয়র অফিসাররা। তাঁরা পুরো প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করবেন এবং কোনও জটিলতা থাকলে তা সেখানেই পরিষ্কার করে দেবেন।
উল্লেখ্য, আগামী ২৬ ডিসেম্বর থেকে রাজ্যে শুরু হচ্ছে SIR-এর শুনানি ও তথ্য যাচাই। এই পর্বকে নির্বাচন প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হয়। তাই কমিশন চাইছে, ভূমিকা অনুযায়ী প্রত্যেক মাইক্রো রোল অবজার্ভার যাতে পুরো দায়িত্ব ঠিকভাবে বুঝে নিয়ে মাঠে নামতে পারেন।
মাইক্রো রোল অবজার্ভারদের কাজ কী হবে?
কোন কোন কেন্দ্রীয় সংস্থার কর্মী থাকছেন-
মেট্রো রেল,দক্ষিণ পূর্ব রেল, জীবনবিমা নিগম, কোল ইন্ডিয়া, ডিভিসি, শুল্ক দফতর প্রভৃতি।
কমিশনের মতে, মাইক্রো অবজারভারদের কাজ সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে চালানোই লক্ষ্য। তাই এই দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে এমন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের, যাঁরা কোনওভাবেই ভোটের দিন রাজ্য সরকারের অধীন থাকবেন না। কারণ তাঁরা ভোটের কাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন এবং রাজ্য প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ বা চাপ তাঁদের উপর কার্যকর হবে না।
জেলা নির্বাচন আধিকারিকরা (DEO) মাইক্রো অবজার্ভারদের (Micro Roll Observers) জন্য লজিস্টিক ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবেন। কাজের সময় তাঁরা শুধুমাত্র ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজেই যুক্ত থাকবেন এবং এই সময় তাঁদের অনুপস্থিতি নিজ নিজ দফতরে ‘অন ডিউটি’ হিসেবেই গণ্য হবে।
চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ পর্যন্ত এই মাইক্রো অবজার্ভাররা কাজ করবেন। এই সময়ের জন্য তাঁদের ৩০ হাজার টাকা এককালীন পারিশ্রমিক দেওয়া হবে, যা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের নিজস্ব ক্যাডার থেকেই বহন করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা। ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে এটি যে বড় পদক্ষেপ, তা মানছেন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।