একাধিক বিতর্কের জেরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর নাম প্রত্যাহার করে নেন। এবার সেই বালিগঞ্জ কেন্দ্রে নতুন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলেন হুমায়ুন কবীর।

শেষ আপডেট: 24 December 2025 17:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত সোমবার নতুন দল ঘোষণা করেন ভরতপুরের বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। ওইদিনই মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিশা চট্টোপাধ্যায়কে বালিগঞ্জ কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন জনতা উন্নয়ন পার্টির (Janata Unnayan Party) প্রধান। কিন্তু একাধিক বিতর্কের জেরে পরে তাঁর নাম প্রত্যাহার করে নেন। এবার সেই বালিগঞ্জ কেন্দ্রে নতুন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলেন হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir new candidate)।
আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বালিগঞ্জ কেন্দ্রে জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী হচ্ছেন প্রাক্তন পুলিশ অফিসার আবুল হাসান (Ballygunge Candidate)। নিশার জায়গায় তাঁর নাম ঘোষণা করেছেন হুমায়ুন কবীর।
তৃণমূল (TMC) থেকে সাসপেন্ড হওয়ার আগেই ঘোষণা করেছিলেন, ২২ ডিসেম্বর তিনি নতুন দল গঠন করবেন এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে একশোর বেশি আসনে প্রার্থী দেবেন। সেই ঘোষণা মতো সোমবার ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (Janata Unnayan Party) নামে নতুন দল, পতাকার আত্মপ্রকাশ করেন হুমায়ুন কবীর। একই সঙ্গে ১০টি বিধানসভা আসনের প্রার্থী তালিকাও প্রকাশ করেন।
কয়েকটি আসনে হিন্দু প্রার্থীর নামও ঘোষণা করা হয়। কলকাতার বালিগঞ্জ কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হিসেবে নিশা চট্টোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু রাত পোহাতেই সিদ্ধান্ত বদল হয়। হুমায়ুন কবীরের দাবি, তিনি নিশা চট্টোপাধ্যায়কে চিনতেন না। তাঁর এক পরিচিত জানিয়েছিলেন, নিশা বালিগঞ্জ কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হতে চায়, সেই কারণেই তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছিল।
তবে ভরতপুরের বিধায়ক আরও জানান, নিশার নাম ঘোষণার হওয়ার পরই তৃণমূলের আইটি সেলের সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া কয়েকটি ভিডিও-সহ আরও কিছু ছবি দেখে তাঁর মনে হয়েছে, বিধানসভার মতো পবিত্র জায়গায় এই ধরনের মানুষ অযোগ্য। তাই রাতারাতি প্রার্থী হিসেবে তাঁকে প্রত্যাহার করেন হুমায়ুন কবীর।
অন্যদিকে, নিশা চট্টোপাধ্যায়ের (Nisha Chatterjee) দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিও নয়, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণেই প্রার্থী তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার এই ইস্যুতে প্রকাশ্যে মুখ খোলেন নিশা। তাঁর বক্তব্য, “হঠাৎ করে আমার ভিডিও নিয়ে কথা উঠছে। চারদিক থেকে নানারকম কথা শোনা যাচ্ছে। হুমায়ুন চাচাই আমাকে প্রার্থী হতে বলেছিলেন। সব ঠিক ছিল। আচমকা এসব কী হচ্ছে বুঝতে পারছি না।”
নিশার অভিযোগ, দলের এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই তাঁকে নানা কটাক্ষ, প্রশ্ন আর সামাজিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। জনতা উন্নয়ন পার্টির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। ভিডিও বিতর্কের আড়ালে আদৌ অন্য কোনও সমীকরণ কাজ করছে কি না, তা নিয়েও জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।