“আমরা বুঝতেই পারিনি নদীর জল কখন এতটা ফুলে উঠেছে। জানালা দিয়ে তাকাতেই মনে হল, পাহাড়টাই বুঝি ভেঙে পড়ছে! কারেন্টও চলে গেল। অন্ধকারে তখন দমবন্ধ অবস্থা!”
.jpeg.webp)
সস্ত্রীক জয়ন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 6 October 2025 14:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বছরের পর বছর ধরে উত্তরবঙ্গ (North Bengal) মানেই ভালবাসার জায়গা। তবে এবারে সেই ভালবাসা মিশে গেল ভয় আর বিভীষিকার স্মৃতিতে। হুগলির (Tourist, Hooghly , Disaster) বৈদ্যবাটি থেকে বেড়াতে গিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে আটকে পড়লেন দুই পরিবারের ছ’জন পর্যটক। কাগে পাহাড়ে এক রাত— যেন রূপকথার দুঃস্বপ্ন!
দুই পরিবারের মধ্যে একজন জয়ন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর স্ত্রী রেশমী বন্দ্যোপাধ্যায় ও পুত্র রোহিত। অপর পরিবারে স্নেহাশিস নিয়োগী, স্ত্রী সঙ্গীতা ও তাঁদের কন্যা।
গত ১ অক্টোবর ব্যান্ডেল থেকে তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেস ধরে রওনা দেন তাঁরা। পরদিন, ২ অক্টোবর নিডম্যাল স্টেশনে নেমে পৌঁছে যান দাওয়াপানিতে। সেখান থেকে নির্ধারিত সূচি মাফিক ৫ তারিখ সন্ধ্যায় পৌঁছন কাগেতে। আর ঠিক তখনই শুরু হয় প্রকৃতির তাণ্ডব।
রাত ১০টা পেরোনোর পর থেকেই হাওয়া-বৃষ্টি-বজ্রপাত— সব মিলিয়ে যেন দানবীয় রূপ নেয় প্রকৃতি। একদিকে প্রবল বৃষ্টি, অন্যদিকে ঋষিখোলা নদীর গর্জন। টেলিফোনের ওপার থেকে জয়ন্তবাবু বললেন, “আমরা বুঝতেই পারিনি নদীর জল কখন এতটা ফুলে উঠেছে। জানালা দিয়ে তাকাতেই মনে হল, পাহাড়টাই বুঝি ভেঙে পড়ছে! কারেন্টও চলে গেল। অন্ধকারে তখন দমবন্ধ অবস্থা!”
একটানা দুর্যোগে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, মোবাইল পরিষেবা কার্যত বন্ধ। পাহাড়ি গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে মুহূর্তেই। একসঙ্গে একটি হোমস্টের ঘরে রাত কাটান ছ’জন। চোখে ঘুম নেই কারোর। শুধু একটা ভাবনাই ঘুরপাক খাচ্ছিল— “ভোর হবে তো?”
সকালে উঠে চোখ কপালে! যেখান দিয়ে আগের দিন গিয়েছিলেন, সেসব রাস্তা কার্যত নিশ্চিহ্ন। চারপাশ জলমগ্ন, নদী উপচে পড়েছে। স্থানীয়দের পরামর্শে মূল পথ বাদ দিয়ে অন্য রুটে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।
সোমবার, ৬ অক্টোবর সকালে, কাগে থেকে বেরিয়ে নতুন পথ ধরে নেমে আসছেন তাঁরা। আশার কথা, এখন তাঁরা নিরাপদেই আছেন।
“১৮ বছর ধরে উত্তরবঙ্গে যাই। এ রকম ভয় কখনও পাইনি,” কাঁপা গলায় বললেন জয়ন্তবাবু। এও বললেন, পাহাড় এখনও প্রিয়, কিন্তু এবারের অভিজ্ঞতা সহজে ভোলার নয়।