দ্য ওয়াল ব্যুরো : মাইক্রোব্লগিং সংস্থা টুইটারের সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছে কেন্দ্রীয় সরকারের। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় বৈদ্যুতিন ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী রবিশংকর প্রসাদ রাজ্যসভায় বললেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ যদি ভুল তথ্য ছড়ায়, হিংসায় উস্কানি দেয়, তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী এদিন খুব নির্দিষ্ট করে টুইটার, ফেসবুক, ইউ টিউব এবং লিঙ্কডইনের নাম বলেন। ওই সোশ্যাল মিডিয়াগুলির উদ্দেশে তিনি বলেন, "ভারতে তোমাদের লক্ষ লক্ষ ফলোয়ার আছে। তোমরা এখানে ব্যবসা করতে পার। লাভ করতে পার। কিন্তু তোমাদের ভারতের সংবিধান মেনে চলতে হবে।"
রাজ্যসভার প্রশ্নোত্তরপর্বে তিনি বলেন, "আমরা সোশ্যাল মিডিয়াকে যথেষ্ট সম্মান করি। সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়নে তাদের ভূমিকা আছে। কিন্তু ভুল তথ্য ছড়ানো বা হিংসায় প্ররোচনা দেওয়ার উদ্দেশে যদি সোশ্যাল মিডিয়াকে কাজে লাগানো হয়, তা হলে ব্যবস্থা নিতেই হবে।"
সম্প্রতি ভারত সরকার জানায়, কয়েকটি টুইটার অ্যাকাউন্টে কৃষক আন্দোলন নিয়ে ভুল খবর ছড়ানো হচ্ছে। এক হাজারের বেশি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার জন্য টুইটারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। টুইটার বুধবার জানায়, ভারত সরকারের নোটিশে যে অ্যাকাউন্টগুলির কথা বলা হয়েছিল, তাদের মধ্যে কয়েকটি বন্ধ করা হয়েছে। তবে কেবল ভারতেই ওই অ্যাকাউন্টগুলি দেখা যাবে না। একইসঙ্গে আমেরিকার ওই সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানি জানিয়েছে, তারা সাংবাদিক, সমাজকর্মী বা রাজনীতিকদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করবে না। কারণ সেক্ষেত্রে বাকস্বাধীনতা লঙ্ঘন করা হবে।
টুইটারের দাবি, অবাধ ইন্টারনেট ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপরে বিশ্ব জুড়েই আক্রমণ আসছে।
টুইটারের ধারণা, যেভাবে তাঁদের কয়েকটি অ্যাকাউন্ট ব্লক করতে বলা হয়েছে, তা ভারতের আইনের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ নয়। সেজন্যই সাংবাদিক, সমাজকর্মী ও রাজনীতিকদের অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়নি। কারণ তা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘন করে। ভারতের আইনে বাকস্বাধীনতা স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে।
মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটার জানিয়েছে, যাদের কথা আগে কেউ জানতে পারেনি, তারা যাতে নিজেদের কথা বলতে পারে, সেজন্য সোশ্যাল নিডিয়া চেষ্টা করবে। প্রত্যেকে যাতে আরও উন্নত পরিষেবা পায়, সেদিকেও নজর থাকবে তাদের।
টুইটারের ব্লগে বলা হয়েছে, "আমরা বাকস্বাধীনতার পক্ষে কাজ করে যাব। টুইটারে যদি কোনও বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়, আমরা তাতে বাধা দেব না।"
টুইটারের সঙ্গে যখন ভারত সরকারের মন কষাকষি চলছে তখনই টুইটারের ভারতীয় শাখার নীতি নির্ধারক অধিকর্তার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান মহিমা কল। যদিও টুইটার জানায়, মহিমার পদত্যাগের পিছনে আলাদা কোনও কারণ নেই। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণেই তিনি কিছু সময়ের জন্য বিশ্রাম চেয়েছেন। যদিও পর্যবেক্ষকদের মতে, টুইটার নিয়ে অশান্তির মাঝেই ভারতীয় শাখার নীতি নির্ধারকের সরে দাঁড়ানোর ঘটনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।