
শেষ আপডেট: 14 December 2022 06:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ট্রাক থেকে মাল খালাস করার সময় পড়ে গিয়ে হাঁটুতে চোট পেয়েছিলেন ৪৯ বছর বয়সি গুলাম মেহবুব। শুরুতে চোটের বিষয়ে তেমন আমল না দিলেও কয়েক মাস পর থেকেই বাড়তে থাকে যন্ত্রণা। উপায়ন্তর না দেখে লোকনায়ক হাসপাতালে (Lok Nayak hospital) ছুটে যান দিল্লির সীতারাম বাজারের বাসিন্দা গুলাম। চিকিৎসকরা জানান, যত শিগগির সম্ভব অস্ত্রোপচার করতে হবে। কিন্তু তার জন্য আগে এমআরআই করতে হবে। কিন্তু সেই এমআরআই-এর জন্য হাসপাতালের তরফ থেকে যে তারিখ দেওয়া হয়, তা দেখে হতভম্ব হয়ে যান গুলাম মেহবুব। দেখা যায়, এমআরআইয়ের জন্য স্লট দেওয়া হয়েছে ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই (wait 2 years for MRI)! এরপরেই লোকনায়ক হাসপাতালের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে (Delhi High Court) মামলা ঠুকেছেন তিনি।
মেহবুবের উকিল অশোক আগরওয়াল জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে হাসপাতালের তরফে তাঁর মক্কেলকে বলা হয় বেসরকারি পরীক্ষাগার থেকে এমআরআই করিয়ে নিতে। কিন্তু অত টাকা খরচ করে বেসরকারি ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করানোর সামর্থ তাঁর মক্কেলের নেই। দিল্লি সরকারের স্কিমের অধীনে সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে সমস্ত রকম পরীক্ষা করানোর ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু দিল্লির ভোটার কার্ড না থাকার কারণে গুলাম মেহবুবকে সেই পরিষেবা দেওয়া যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় হাসপাতালের তরফে।
এরপরেই মেহবুবের হয়ে গত ৬ ডিসেম্বর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিস পাঠান অশোকবাবু। তারপর মেহবুবকে বিনামূল্যে এমআরআই পরিষেবা দিতে রাজি হয় লোক নায়ক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু পরীক্ষার জন্য স্লট দেওয়া হয় এখন থেকে প্রায় ২ বছর বছর পর, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই।
এরপরেই আগে স্লট পাওয়ার দাবিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে পিটিশন দাখিল করেন অশোকবাবু।
বিষয়টি নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চায়নি লোকনায়ক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। যদিও হাসপাতালের সিনিয়র চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দেরিতে স্লট পাওয়ার এই ধরনের ঘটনা একেবারেই অস্বাভাবিক নয়। 'এই ক্ষেত্রে কোনও বৈষম্য করা হচ্ছে না। লোকনায়ক হাসপাতালে প্রতিদিন হাজার হাজার রোগী আসেন। রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য গড়ে ২-৩ বছর অপেক্ষা করতে হয়। কোনও কোনও ক্ষেত্রে তা ৫ বছরও হয়ে যায়। সেই কারণেই জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে আমরা রোগীদের বলি সামর্থ থাকলে বেসরকারি জায়গা থেকে পরীক্ষা করিয়ে নিয়ে আসতে, যাতে চিকিৎসা শুরু হতে দেরি না হয়,' জানিয়েছেন হাসপাতালের এক সিনিয়র চিকিৎসক।
শুধু লোকনায়ক হাসপাতালই নয়, একই অবস্থা দেশের অন্যতম সেরা চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান দিল্লির এইমস এবং নয়াদিল্লির সফদরজং হাসপাতালেও। এইমস-এ কয়েক বছর আগেও এক্স-রে কিংবা এমআরআই-এর মতো সাধারণ পরীক্ষার জন্য ন্যূনতম ৫ বছর পর স্লট পাওয়া যেত। তবে সম্প্রতি বেশ কিছু অতিরিক্ত যন্ত্রপাতি আনা হয়েছে সেখানে। তাছাড়া অনলাইনে স্লট বুক করার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তারপর থেকেই গড় ওয়েটিং টাইম একধাক্কায় বেশ অনেকখানিই কমে গেছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
এসব জেনেও খুশি নন আদতে বিহারের বাসিন্দা গুলাম মেহবুব। কাজের প্রয়োজনেই তাঁকে বারবার বিহার থেকে দিল্লিতে গিয়ে থাকতে হয়। কিন্তু অস্ত্রোপচার না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ রয়েছে তাঁর। স্বভাবতই আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে মেহবুবের। তিনি জানিয়েছেন, 'আমার তিন মেয়ে এবং এক ছেলে আছে, সবাই পড়াশোনা করছে। চোট লাগার পর আর দিল্লিতে থাকতে পারিনি। খরচে কুলোতে পারছিলাম না। আমাকে বিহারের গ্রাম থেকে দিল্লিতে যাতায়াত করতে হয়। চিকিৎসার জন্য আমাকে দিল্লিতে আসতেই হচ্ছে।'
'যত দেরি হবে, আমার পরিবারের আর্থিক অবস্থা তত খারাপ হবে, দাবি তাঁর।'
চিকিৎসার বিষয়ে তিনি কোনও অগ্রাধিকার চান না। কিন্তু পুরো প্রক্রিয়া যাতে দ্রুত সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করতেই আদালতের কাছে আর্জি রেখেছেন, জানিয়েছেন মেহবুব।
ঝোপে নিয়ে গিয়ে ৮ বছরের ছাত্রীকে নিয়মিত যৌন নির্যাতন প্রধান শিক্ষকের! গ্রেফতার অভিযুক্ত