পুজো আসলেই কুমোরটুলিতে উপচে পড়ে ভিড়। কেউ শাড়ি পরে ধুনুচি নাচেন, কেউ আবার মাটির প্রতিমার সামনে দাঁড়িয়ে রিল বানান। কেউ অসুরের পা ধরে ফটোশ্যুট করেন। প্রায় প্রতিদিন লাইট, ফোন, ক্যামেরা নিয়ে হাজির হন ব্লগার ও ইউটিউবাররা। প্রতি পুজোতেই এই অবস্থা চলায় এবার অন্যরকম চিন্তাভাবনা শিলিগুড়ির কুমোরটুলিতে।

গ্রাফিক্স: শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 24 September 2025 12:37
ফেলো কড়ি মাখো তেল। এবার শিলিগুড়ির কুমোরটুলিতে ছবি বা ভিডিও তুলতে হলে গুনতে হবে নগদ টাকা। নতুন ব্যবস্থা চালু হতেই মুখ শুকিয়েছে অনেকের।
পুজো আসলেই কুমোরটুলিতে উপচে পড়ে ভিড়। কেউ শাড়ি পরে ধুনুচি নাচেন, কেউ আবার মাটির প্রতিমার সামনে দাঁড়িয়ে রিল বানান। কেউ অসুরের পা ধরে ফটোশ্যুট করেন। প্রায় প্রতিদিন লাইট, ফোন, ক্যামেরা নিয়ে হাজির হন ব্লগার ও ইউটিউবাররা। প্রতি পুজোতেই এই অবস্থা চলায় এবার অন্যরকম চিন্তাভাবনা শিলিগুড়ির কুমোরটুলিতে।
মৃৎশিল্পীরা বলছেন, ‘‘শুধু নিজেদের ছবি তোলাই নয়, কাকু একটু হেসে তাকান,মায়ের চোখে তুলি রাখুন। এ সব চলতেই থাকে আর এইসবের মাঝেই আমাদের ক্ষতির মুখেও পড়তে হচ্ছে। কখনও সিংহের লেজ, কখনও গণেশ বা দুর্গার হাত ভেঙে যাচ্ছে।’’ মৃৎশিল্পীরা যে ক্ষুব্ধ তা তাঁদের বক্তব্যে পরিষ্কার। তাঁরা বলেন, “এটা তো কোনও শুটিং সেট নয়। আমাদের কাজের গতি নষ্ট হচ্ছে, প্রতিমা ভাঙছে।”
তাই প্রতিমা বাঁচাতে এবং বিশৃঙ্খলা এড়াতে রীতিমতো রেট চার্ট ঝুলিয়ে দিলেন কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীরা। নিলু পালের কারখানার বাইরে টাঙানো বোর্ডে স্পষ্ট লেখা—“ফটো ১০০ টাকা, ভিডিও ৫০০ টাকা।”
নিলু পাল বলেন, “ওরা যেমন কনটেন্ট বানিয়ে আয় করছে, আমরাও চাই কিছুটা রোজগার করতে। এখন টাকার কথা শুনেই অনেকে পালাচ্ছেন।” তাই টাকার বোর্ড ঝোলানোর পরেই রেহাই মিলছে অনেকটা। এমনটাই জানালেন নিলু পাল। তাঁর কথায় “এই মূর্তিটা একটা ক্লাবের জন্য বানাচ্ছিলাম। ভিডিও করার সময় দেখি গণেশ আর দুর্গার হাতটা ভেঙে দিয়েছে। নতুন করে বানানোর সময় নেই, ক্লাবও এক্সট্রা টাকা দেবে না। তার ওপর কাজের মাঝে জোর করে আমাদের অংশগ্রহণ করাচ্ছে। লোকসান তো আর করা যাবে না। তাই এই বোর্ড ঝুলিয়েছি। আর তাতে কাজও হচ্ছে।’’
অন্যদিকে, শিল্পী সনাতন পাল আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি কোনো রেট চার্ট ঝুলাচ্ছি না। একেবারেই কাউকে ঢুকতে দিচ্ছি না ভিতরে।এছাড়া আর কোনও উপায় নেই।এই শেষ মুহূর্তে আমরা খাওয়া দাওয়ার সময় পাচ্ছি না। এখন যদি এমন উৎপাত সহ্য করতে হয় তবে আমাদের অবস্থা আরও খারাপ হবে।’’
শিল্পীদের আশা, এই পদক্ষেপে ব্লগার–ইউটিউবারদের উৎপাত কমবে, আর রক্ষা পাবে তাঁদের ঘাম ঝরানো পরিশ্রমে তৈরি প্রতিমা।