নিম্নচাপ বুধবার পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। এর পরে তা দুর্বল হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ২৫ সেপ্টেম্বর ফের বঙ্গোপসাগরে আরেকটি নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ঘনীভূত হয়ে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দক্ষিণ ওড়িশা-উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 24 September 2025 11:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার রাতে তথা মঙ্গলবার ভোরে ৫ ঘণ্টা টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে গেছিল কলকাতা ও তার উপকণ্ঠ। আচমকা বিপুল বৃষ্টির কারণে শহরে রেকর্ড ভাঙা জলধারা নেমে এসেছে। আবহাওয়া দফতরের (IMD) তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ২৫১.৪ মিমি বৃষ্টি হয়েছে, যা ১৯৭৮ সালের পর সেপ্টেম্বর মাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ একদিনের বর্ষণ। কলকাতার এমন আবহাওয়া (Kolkata Weather Update) গত দশ বছরেও দেখা যায়নি।
এই বৃষ্টি শহরের সর্বকালের ষষ্ঠ সর্বোচ্চ দৈনিক বৃষ্টিপাত (Kolkata Rain) হিসেবেও নথিভুক্ত হল। এর আগে ১৯৭৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ২৮ তারিখে হয়েছিল ৩৬৯.৬ মিমি বৃষ্টি। পরে ১৯৮৬ সালের ২৬ তারিখে হয়েছিল ২৫৯.৫ মিমি বৃষ্টি। মঙ্গলবার ভোর রাতে, বিশেষ করে রাত আড়াইটে থেকে ভোর পাঁচটার মধ্যে, কলকাতায় প্রায় ১৮৫ মিমি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “কলকাতায় ঘণ্টায় সর্বাধিক ৯৮ মিমি বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। তবে এটিকে ক্লাউডবার্স্ট (Cloudburst) বলা যাবে না, কারণ ক্লাউডবার্স্ট হওয়ার জন্য ঘণ্টায় কমপক্ষে ১০০ মিমি বৃষ্টিপাত জরুরি।”
কেন হল এত বৃষ্টি?
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, সোমবার বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ তৈরি হয় এবং তা গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপকূলের দিকে অগ্রসর হয়। এর জেরে কলকাতার আকাশে বিপুল পরিমাণ আর্দ্রতা জমা হয়। ডপলার রাডারের ছবিতে দেখা গিয়েছে, মেঘের উচ্চতা ছিল প্রায় ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার, যা স্বল্প সময়ের মধ্যেই ভয়াবহ বর্ষণ নামিয়ে আনে।
এই নিম্নচাপ বুধবার পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। এর পরে তা দুর্বল হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ২৫ সেপ্টেম্বর ফের বঙ্গোপসাগরে আরেকটি নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ঘনীভূত হয়ে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দক্ষিণ ওড়িশা-উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে।
আগামী দিনের পূর্বাভাস (Kolkata Weather Forecast)
পরবর্তী সাত দিন দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণও হতে পারে। মৎস্যজীবীদের ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সমুদ্রে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমুদ্র উপকূলে অশান্ত আবহাওয়া ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া বজ্রপাত ও বিদ্যুতের খুঁটির কাছে আশ্রয় না নেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
মঙ্গলবারের বৃষ্টির জল শহরের বহু এলাকা থেকে এখনও নামেনি। কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, “এই বন্যার মতো পরিস্থিতি নজিরবিহীন। এমনকি আদি গঙ্গার কাছাকাছি অঞ্চল, যেখানে সাধারণত জল দ্রুত বেরিয়ে যায়, সেখানেও তীব্র জলজট হয়েছে।” আদি গঙ্গা উপচে ওঠায় স্বাভাবিক নিকাশির প্রক্রিয়া কার্যত ভেস্তে গেছে।
সন্দেহ নেই, দুর্গাপুজোর মধ্যে এই বৃষ্টি কলকাতার প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলেছে। অনেক পুজো কমিটি বলছে, হঠাৎ বন্যার মতো পরিস্থিতিতে মণ্ডপ নির্মাণ এবং সাজসজ্জা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার সরকারি স্কুলগুলির ছুটি দু’দিন এগিয়ে দিয়েছে।
কলকাতার মতোই এ বছর দেশের অন্য প্রান্তেও অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগস্টের শেষ দিনে চেন্নাইয়ে ২৪ ঘণ্টায় ২৭০ মিমি বৃষ্টি হয়েছিল। আবার উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশে একাধিকবার ক্লাউডবার্স্টের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই ক্রমে এমন চরম আবহাওয়া দেখা দিচ্ছে।
তবে কলকাতার এবারের বর্ষণ একদিকে নতুন রেকর্ড তৈরি করল, অন্যদিকে শহরের দুর্বল নিকাশি ব্যবস্থা ও জলজটের সমস্যা আরও প্রকট করে তুলল। আবহাওয়া দফতর বলছে, আপাতত বৃষ্টির তীব্রতা কমলেও ফের নতুন নিম্নচাপের আশঙ্কা রয়েছে। ফলে দক্ষিণবঙ্গবাসীকে অন্তত আগামী সপ্তাহজুড়ে ভিজতে হতে পারে।