ভোটের আগে এআই-চালিত ভুয়ো প্রচারের অভিযোগে বিজেপির বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে চার পাতার চিঠি দিল তৃণমূল। ডিপফেক ও ডিজিটাল প্রচার নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক।

ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 24 March 2026 21:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলার নির্বাচনী লড়াইয়ে এবার প্রবেশ করল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (AI) গোলকধাঁধা। আসন্ন নির্বাচনের আগে ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) বিরুদ্ধে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘ভুয়ো ও বিভ্রান্তিকর’ প্রচার চালানোর অভিযোগে সরব হল অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। এই মর্মে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের কাছে চার পাতার একটি বিস্তারিত নালিশি চিঠি পাঠিয়েছে জোড়ফুল শিবির। তৃণমূলের দাবি, আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ভোটারদের মন ঘোরানোর চেষ্টা করছে বিজেপি।
তৃণমূলের পাঠানো ওই চিঠিতে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে জানানো হয়েছে যে, বিজেপি বর্তমানে এমন কিছু রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন ও ‘সিন্থেটিক মিডিয়া’ ব্যবহার করছে যা সাধারণ মানুষের কাছে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। অভিযোগ করা হয়েছে, এআই-এর মাধ্যমে তৈরি করা ভিডিও বা অডিওগুলো আদতে সত্য নয়, কিন্তু প্রযুক্তির কারসাজিতে সেগুলো এতটাই নিখুঁত যে সাধারণ ভোটাররা সেগুলোকে সত্যি বলে ভুল করছেন। তৃণমূলের মতে, এই পদক্ষেপ সরাসরি মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট (MCC) এবং তথ্য প্রযুক্তি আইনের (IT Act) পরিপন্থী।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই ধরনের এআই-চালিত প্রচার কেবল অনৈতিক নয়, বরং তা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে কালিমালিপ্ত করতে এবং জনমানসে ভুল ধারণা তৈরি করতে বিজেপি এই ‘ডিপফেক’ প্রযুক্তির আশ্রয় নিচ্ছে বলে তৃণমূলের অভিযোগ। তাদের দাবি, ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন অ্যাক্ট লঙ্ঘন করে মানুষের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দকেও প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে, যা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় অন্তরায়।
নির্বাচন কমিশনের কাছে তৃণমূল কংগ্রেস চারটি প্রধান দাবি পেশ করেছে। প্রথমত, বিজেপির এই প্রচার কৌশলের বিরুদ্ধে দ্রুত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করা হোক। দ্বিতীয়ত, আদর্শ আচরণবিধি ও আইটি আইনের আওতায় দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তৃতীয়ত, সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এই ধরনের এআই-চালিত বিজ্ঞাপন অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হোক। এবং চতুর্থত, নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ রাখতে প্রযুক্তির এই অপব্যবহার রুখতে কমিশনকে বিশেষ নজরদারি চালাতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, নির্বাচনের লড়াই তত বেশি ডিজিটাল যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে। এর আগে বিভিন্ন রাজ্যে এআই-এর ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক হলেও, পশ্চিমবঙ্গে চার পাতার বিস্তারিত চিঠি দিয়ে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ চাওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এখন দেখার, তৃণমূলের এই নালিশের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন ডিজিটাল প্রচারের ক্ষেত্রে কোনও নতুন নির্দেশিকা বা কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে কি না।