ভোটের আগে কলকাতার বাঘাযতীনের পূর্ব ফুলবাগান এলাকায় আবাসনের ছাদে শ্যুটআউট। গুলিতে মৃত্যু তৃণমূলকর্মী রাহুল দে-র, আহত জিৎ মুখোপাধ্যায়। তদন্তে পাটুলি থানা ও লালবাজারের হোমিসাইড শাখা।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 26 March 2026 09:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটের আগে খাস কলকাতার (Kolkata Shootout) বাঘাযতীনে গুলিবিদ্ধ (Baghajatin Shootout) হয়ে মৃত্যু হল এক তৃণমূলকর্মীর (TMC Worker)। বুধবার গভীর রাতে পূর্ব ফুলবাগান এলাকায় একটি আবাসনের ছাদে শ্যুটআউটের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। গুলিতে নিহত তৃণমূলকর্মী রাহুল দে। ঘটনায় আহত হয়েছেন জিৎ মুখোপাধ্যায় নামে আরও এক যুবক। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে পাটুলি থানার পুলিশ এবং শুরু হয়েছে তদন্ত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ বাঘাযতীনের পূর্ব ফুলবাগান এলাকার একটি চারতলা আবাসনের ছাদ থেকে গুলির শব্দ পান স্থানীয়রা। অন্তত তিন রাউন্ড গুলি চলার কথা জানা গেছে। দ্রুত খবর দেওয়া হয় পাটুলি থানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছাদ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় দুই যুবককে উদ্ধার করে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় রাহুল দে-র। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় জিৎ মুখোপাধ্যায়কে।
জানা গিয়েছে, ওই বহুতলে জিৎ মুখোপাধ্যায়ের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। মৃতের পরিবারের দাবি, মঙ্গলবার জিৎ ফোন করে রাহুলকে নিজের ফ্ল্যাটে ডেকেছিলেন। সেই সূত্রেই রাহুল সেখানে গিয়েছিলেন। যদিও কয়েক বছর আগে দু’জনের মধ্যে সম্পর্ক থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তেমন যোগাযোগ ছিল না বলে জানা গেছে। ফলে হঠাৎ করে রাহুলকে কেন ডাকা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
ঘটনার তদন্তে নেমেছে লালবাজারের হোমিসাইড শাখার আধিকারিকরাও। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুই যুবকের পরিচিতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের সঙ্গেও কথা বলছে পুলিশ। কী কারণে এই শ্যুটআউট, তা খতিয়ে দেখতে একাধিক দিক থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে।
আহত জিৎ মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রী পুলিশকে জানিয়েছেন, বুধবার রাতে আচমকাই কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ফ্ল্যাটে ঢুকে পড়ে এবং গুলি চালায়। তবে কারা এসেছিল, কী তাদের পরিচয় এবং কেন এই হামলা চালানো হল—সব প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। রাহুল ও জিতের কারও সঙ্গে শত্রুতা ছিল কি না, কিংবা ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে এই ঘটনা ঘটেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার সময় ওই ফ্ল্যাটের ছাদে কয়েকজন খাওয়া-দাওয়া করছিলেন। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নমুনা সংগ্রহ করেছে। মৃতের পরিবারের দাবি, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা রাহুল ও জিৎ-কে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। রাহুলের সঙ্গে যিনি সেখানে গিয়েছিলেন, তিনিই পরিবারের সদস্যদের প্রথমে খবর দেন বলে জানা গেছে।
জিৎ ও রাহুলের মধ্যে দীর্ঘদিন যোগাযোগ না থাকার পরও কেন ওই রাতে দেখা করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, কে বা কারা তাদের টার্গেট করল—এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে জোরকদমে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। আগামী মাসেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোট হওয়ার কথা। তার আগে কলকাতার বুকে এই গুলিতে মৃত্যুর ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। এলাকায় উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।