ঘটনার সূত্রপাত রাজ্য সড়কের ধারে নয়ানজুলি ভরাট করে দোকান তৈরির অভিযোগ থেকে। অধ্যক্ষ শুভাশিস পাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ নিয়ে গবেষণা করছেন।

হামলার শিকার অধ্যক্ষ - ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 3 July 2025 22:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরিবেশ সচেতনতার বার্তা দিতে গিয়ে জনসমক্ষে নিগৃহীত হতে হল কলেজের অধ্যক্ষকে (College Principal)। নদিয়ার (Nadia) চাপড়া থানার অন্তর্গত এলাকায় এই ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, স্থানীয় এক তৃণমূল কর্মীর (TMC Worker) হাতে মার খেয়েছেন চাপড়া জেনারেল ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শুভাশিস পাণ্ডে। ঠিক কী ঘটেছে?
স্থানীয় সূত্রে খবর, পরিবেশ রক্ষার কাজে বাধা দেওয়া নিয়ে প্রতিবাদ করতেই রাস্তায় হেনস্থা করা হয় তাঁকে। অপমানের চোটে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি অধ্যক্ষ। জানিয়েছেন, কলেজে আর কাজ করবেন না। এমনকী, চাকরি ছাড়ার কথাও ভাবছেন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত রাজ্য সড়কের ধারে নয়ানজুলি ভরাট করে দোকান তৈরির অভিযোগ থেকে। অধ্যক্ষ শুভাশিস পাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ নিয়ে গবেষণা করছেন। সেই সূত্রেই তিনি লক্ষ্য করেন, চাপড়া থানার অন্তর্গত একটি এলাকায় নয়ানজুলি ও ঝোপঝাড় বেমালুম উধাও। পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছড়াতে তিনি ওই এলাকায় বোর্ড লাগিয়ে দেন।
কিন্তু বোর্ডগুলি ভেঙে ফেলা হয়। বৃহস্পতিবার সেই বোর্ডগুলি মেরামতের জন্য গেলে আচমকা তাঁর উপর চড়াও হন স্থানীয় তৃণমূলকর্মী অজয় ঘোষ, এমনটাই অভিযোগ শুভাশিসবাবুর। জানা গেছে, অজয়ের ভাই স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য।
শুভাশিস জানান, হেনস্থার পর স্থানীয় বাসিন্দারাই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তিনি চাপড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন অজয়ের বিরুদ্ধে।
এই ঘটনার রেশ কাটাতে পারছেন না অধ্যক্ষ। বলেন, “যেভাবে মারধর করা হয়েছে, তাতে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। ডিপার্টমেন্টকে বলব, আমাকে অন্য কোথাও বদলি করা হোক। না হলে চাকরিটাই ছেড়ে দেব। এই কলেজে আমি আর কাজ করতে পারব না।”
অভিযুক্ত অজয় ঘোষ নিজেই অবশ্য দোষ স্বীকার করেছেন। কিন্তু তিনি যা বলেছে তা কার্যত বিস্ফোরক। তাঁর বক্তব্য, “তখন আমার মাথায় রক্ত চড়ে গিয়েছিল। এমন মানসিক অবস্থায় ছিলাম যে, সেখানে আমার বাবা থাকলেও তাকেও মারতাম!''
তৃণমূলকর্মীর এহেন মন্তব্য ও কার্যকলাপে উদ্বেগে শিক্ষক মহল। পুলিশের তরফে অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।