"আইন-শৃঙ্খলাই যে কোনও গণতন্ত্রের ভিত্তি। কিন্তু বিজেপির ডবল ইঞ্জিন সরকারের রাজ্যগুলোতে সেই ভিত্তিই ভেঙে পড়েছে। বিজেপি যেখানে যায়, হিংস্রতা তাদের সঙ্গী হয়ে যায়—ক্ষমতার মুখোশ পরে, নীরবে হেঁটে বেড়ায়।"

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 7 October 2025 12:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাগরাকাটা কাণ্ডের মধ্যেই (Nagarakata Case) ওড়িশার বেরহামপুরে (Odisha Incident) বিজেপি নেতা পীতাবাস পাণ্ডার খুনের ঘটনার প্রেক্ষিতে কেন্দ্র ও বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলল বাংলার শাসকদল (TMC Vs BJP)।
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিস্ফোরক টুইট করে তৃণমূল লেখে, "আইন-শৃঙ্খলাই যে কোনও গণতন্ত্রের ভিত্তি। কিন্তু বিজেপির ডবল ইঞ্জিন সরকারের রাজ্যগুলোতে সেই ভিত্তিই ভেঙে পড়েছে। বিজেপি যেখানে যায়, হিংস্রতা তাদের সঙ্গী হয়ে যায়—ক্ষমতার মুখোশ পরে, নীরবে হেঁটে বেড়ায়।"
সরাসরি আক্রমণের সুরে আরও লেখা হয়েছে, "ওড়িশার বেরহামপুরে বিজেপির প্রবীণ নেতা পীতাবাস পাণ্ডাকে ঠান্ডা মাথায় গুলি করে খুন করা হয়েছে। অথচ তাঁদের প্রচারমন্ত্রী এখনও শাসন ও শৃঙ্খলার পাঠ পড়িয়ে বেড়াচ্ছেন। আগে নিজের বাড়ির ভাঙা দেয়াল দেখুন, তার পর অন্যকে উপদেশ দিন। কাচের ঘরে থাকলে পাথর ছোড়া চলে না।"
ঘটনার সূত্রপাত, গত শনিবারের অতিবৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ। ধসে ঘরবাড়ি ভেঙে পড়া, লোকালয় ভেসে যাওয়া, একাধিক প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে সোমবার নাগরাকাটায় ত্রাণ দিতে গিয়ে আক্রান্ত হন বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ।
অভিযোগ, তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনীর হামলায় জীবন সংশয় তৈরি হয়েছে খগেন মুর্মুর। এ ব্যাপারে সোমবার টুইটে বাংলার শাসকদলকে আক্রমণ শানিয়েছিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মোদীর বিচক্ষণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তারই মধ্যে ওড়িশাকাণ্ড। যে প্রসঙ্গ তুলে পদ্মশিবিরকে তীব্র আক্রমণ শানাল রাজ্যের শাসকদল।
সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূলের কটাক্ষ, "প্রত্যেক ভারতীয়ের প্রাণের অধিকার সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত। কিন্তু বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে তা কেবল কথার কথা। বাস্তবে তার কোনও প্রতিফলন নেই। জনগণ এই অন্যায়ের স্মৃতি মনে রাখবে!"
রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই এই টুইট ঘিরে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। ভোটের মুখে রাজনৈতিক সংঘর্ষ, আইন-শৃঙ্খলা ও দলীয় দ্বন্দ্ব নিয়ে ফের চড়ছে উত্তাপ। এখন দেখার তৃণমূলের টুইটের জবাবে বিজেপি কী প্রতিক্রিয়া জানায়।